বীজের বস্তায় পোকার উপদ্রব থেকে রক্ষার জন্য কি মেশানো হয়
বীজ সংরক্ষণ করা কৃষকের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে আর্দ্রতা এবং পোকার
আক্রমণ ঠিকঠাক সামলাতে না পারলে পুরো পরিশ্রমই বৃথা যেতে পারে। বীজের বস্তায়
পোকার উপদ্রব ঠেকাতে সাধারণত যেসব পদ্ধতি ও উপাদান ব্যবহার করা হয়, তার একটি
বিস্তারিত তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
আজকের আর্টিকেলটি পড়ে আপনারা জানতে পারবেন বীজের বস্তায় পোকার উপদ্রব থেকে
রক্ষার জন্য কি মেশানো হয়
পেজ সূচিপত্র:বীজের বস্তায় পোকার উপদ্রব থেকে রক্ষার জন্য কি মেশানো হয়
- বীজের আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ ও শুকানো
- নিমপাতার ব্যবহার ও প্রাকৃতিক প্রতিরোধ
- ছাই ও বালুর মিশ্রণের জাদু
- ন্যাপথলিন ও কর্পূরের সঠিক প্রয়োগ
- বায়ুরোধী প্লাস্টিক ড্রাম বা ব্যাগ
- গোলমরিচ ও শুকনো লঙ্কার ব্যবহার
- রাসায়নিক কীটনাশক পাউডারের ব্যবহার
- তেলের প্রলেপ বা কোটিং পদ্ধতি
- গুদামের পরিচ্ছন্নতা ও বস্তার অবস্থান
- আধুনিক ফিউমিগেশন বা গ্যাসীয় পদ্ধতি
- কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস (প্রতিরোধই মূল)
- সতর্কতা
১. বীজের আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ ও শুকানো
বীজ সংরক্ষণের প্রথম এবং প্রধান শর্ত হলো বীজের আর্দ্রতা সঠিকভাবে কমিয়ে আনা। ফসল
কাটার পর বীজে প্রচুর পরিমাণে জলীয় অংশ থাকে যা পোকা ও ছত্রাকের জন্য আদর্শ
পরিবেশ তৈরি করে। রৌদ্রে ভালোভাবে শুকানোর মাধ্যমে বীজের আর্দ্রতা সাধারণত ১০-১২
শতাংশের নিচে নামিয়ে আনতে হয়। আর্দ্রতা বেশি থাকলে বীজের শ্বসন হার বেড়ে যায় এবং
এর ফলে বস্তার ভেতর তাপ উৎপন্ন হয়। এই অতিরিক্ত তাপ বীজের অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা নষ্ট
করে দেয় এবং পোকার বংশবিস্তারে সহায়তা করে। তাই ঝরঝরে করে শুকানো বীজ বস্তায় ভরলে
পোকার উপদ্রব অনেকাংশেই কমে যায় এবং স্থায়িত্ব বাড়ে। সঠিক মাত্রায় শুকানো বীজ
হাতে নিয়ে চাপ দিলে যদি ‘কট’ করে শব্দ হয় তবে বুঝতে হবে তা ঠিক আছে। বীজের সঠিক
শুষ্কতা নিশ্চিত করা হলো দীর্ঘমেয়াদী সংরক্ষণের জন্য সবথেকে সহজ ও কার্যকরী
প্রাকৃতিক উপায়।
২. নিমপাতার ব্যবহার ও প্রাকৃতিক প্রতিরোধ
প্রাচীনকাল থেকেই বীজের বস্তায় পোকা তাড়াতে নিমের পাতা ব্যবহার করা হয়ে আসছে যা
বেশ কার্যকর। নিমে থাকা ‘অ্যাজাডিরেক্টিন’ নামক উপাদান পোকার প্রজনন ক্ষমতা নষ্ট
করে দেয় এবং ডিম পাড়তে বাধা দেয়। সাধারণ ব্যবহারের জন্য নিমের পাতা প্রথমে
ভালোভাবে শুকিয়ে গুঁড়ো করে বীজের সাথে মিশিয়ে দিতে হয়। কাঁচা নিমপাতা ব্যবহার
করলে হিতে বিপরীত হতে পারে কারণ এর আর্দ্রতা বীজে পচন ধরাতে পারে। শুকনো পাতা
বীজের ওপরের স্তরে এবং মাঝখানে বিছিয়ে দিলে ঘুণ পোকার উপদ্রব থেকে মুক্তি পাওয়া
যায়। এটি একটি সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি যাতে বীজের গুণমান এবং স্বাস্থ্য
ঝুঁকি নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা থাকে না। রাসায়নিক বিষের বিকল্প হিসেবে ক্ষুদ্র
চাষিদের জন্য নিমপাতা এখনো পর্যন্ত সেরা ও নিরাপদ একটি মাধ্যম। এছাড়া নিমের তেলের
মিশ্রণও বীজের ওপর পাতলা প্রলেপ হিসেবে ব্যবহার করা যায় যা পোকা দূরে রাখে।
৩. ছাই ও বালুর মিশ্রণের জাদু
অনেকেই বীজের বস্তায় পরিষ্কার কাঠের ছাই বা শুকনো বালু মিশিয়ে বীজ সংরক্ষণ করে
থাকেন যা বেশ প্রাচীন পদ্ধতি। ছাই বীজের গায়ে লেগে থেকে এক ধরনের যান্ত্রিক বাধা
সৃষ্টি করে যা পোকার চলাচলে বিঘ্ন ঘটায়। পোকা যখন বীজের গায়ে হাঁটাচলা করে তখন
ছাইয়ের কণাগুলো তাদের শরীরের আর্দ্রতা শুষে নিয়ে তাদের মেরে ফেলে। এছাড়া বীজের
বস্তার উপরিভাগে ২-৩ ইঞ্চি পুরু বালুর স্তর দিলে বাতাস চলাচল কমে যায় এবং পোকা
ঢুকতে পারে না। বিশেষ করে ডালজাতীয় বীজের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি অত্যন্ত কার্যকর
বলে প্রমাণিত হয়েছে বিভিন্ন কৃষি গবেষণায়। বালু ব্যবহারের ফলে বীজের মাঝে ফাঁকা
জায়গা থাকে না বলে পোকা এক বীজ থেকে অন্য বীজে যেতে পারে না। এটি অত্যন্ত সাশ্রয়ী
এবং সহজলভ্য একটি উপায় যা গ্রামের সাধারণ চাষিরা সহজেই প্রয়োগ করতে পারেন। তবে
ব্যবহারের আগে ছাই বা বালু অবশ্যই ভালোভাবে চেলে পরিষ্কার এবং সম্পূর্ণ শুকনো করে
নিতে হয়।
৪. ন্যাপথলিন ও কর্পূরের সঠিক প্রয়োগ
বীজের পোকা তাড়াতে অনেকে বস্তার ভেতরে ছোট ছোট কাপড়ের পুটলি করে ন্যাপথলিন বা
কর্পূর ব্যবহার করেন। এই বস্তুগুলোর তীব্র গন্ধ পোকাদের বস্তার ধারেকাছে ঘেঁষতে
দেয় না এবং দীর্ঘ সময় কার্যকর থাকে। তবে মনে রাখতে হবে যে ন্যাপথলিন মেশানো বীজ
পরবর্তীতে খাওয়ার জন্য ব্যবহার করা একদমই উচিত নয়। এটি শুধুমাত্র বপনের জন্য রাখা
বীজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কারণ এর রাসায়নিক উপাদান বীজের খাদ্যগুণ নষ্ট করে।
বস্তার আকার অনুযায়ী নির্দিষ্ট সংখ্যক ন্যাপথলিন ট্যাবলেট দিলে ভেতরে বায়বীয়
পরিবেশ তৈরি হয় যা পোকা মারতে সাহায্য করে। কর্পূর ব্যবহারের সুবিধা হলো এটি
দ্রুত উবে যায় এবং বাতাসের বিষাক্ততা কমিয়ে পোকা দমনে সক্রিয় ভূমিকা রাখে। তবে
অধিক মাত্রায় এসব রাসায়নিক ব্যবহারের ফলে বীজের অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা কিছুটা হ্রাস
পাওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়। তাই সবসময় সীমিত পরিমাণে এবং সরাসরি বীজের স্পর্শে না
রেখে কাপড়ে মুড়িয়ে এগুলো ব্যবহার করা শ্রেয়।
৫. বায়ুরোধী প্লাস্টিক ড্রাম বা ব্যাগ
আধুনিক পদ্ধতিতে বীজের বস্তার পরিবর্তে বায়ুরোধী বা ‘এয়ারটাইট’ প্লাস্টিক ড্রাম
বা ব্যাগ ব্যবহার করা অনেক বেশি নিরাপদ। পোকা বেঁচে থাকার জন্য অক্সিজেনের
প্রয়োজন হয় এবং বায়ুরোধী পাত্রে অক্সিজেনের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। যদি বীজের সাথে
কোনো পোকা ভেতরে চলেও যায় তবে অক্সিজেনের অভাবে তারা দ্রুত মারা যায়।
এই পদ্ধতিতে
বীজ রাখলে বাইরের পরিবেশের আর্দ্রতা ভেতরে ঢুকতে পারে না ফলে বীজ দীর্ঘকাল সতেজ
থাকে। ধাতব ড্রাম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ঢাকনাটি ভালোভাবে আটকানো নিশ্চিত করতে হয়
যাতে কোনো ছিদ্র না থাকে। পলিথিন লাইনার দেওয়া বস্তা ব্যবহার করলে সাধারণ চটের
বস্তার চেয়ে বীজের সুরক্ষা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। উন্নত বিশ্বে এখন ‘হারমেটিক ব্যাগ’
ব্যবহার করা হচ্ছে যা বীজের আর্দ্রতা ও গ্যাসীয় পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে অনন্য। এই
প্রযুক্তি ব্যবহারে কোনো অতিরিক্ত রাসায়নিকের প্রয়োজন পড়ে না বিধায় এটি পরিবেশের
জন্য অনেক নিরাপদ।
৬. গোলমরিচ ও শুকনো লঙ্কার ব্যবহার
প্রাকৃতিক উপায়ে বীজের পোকা দমন করতে শুকনো লঙ্কা বা গোলমরিচের গুঁড়ো বস্তায়
মেশানো বেশ জনপ্রিয়। শুকনো লঙ্কার ঝিঁঝিঁ গন্ধ এবং ঝাঁঝালো ভাব ধানের পোকা বা
চালের পোকা তাড়াতে অত্যন্ত পারদর্শী। সাধারণত বীজের বস্তার প্রতি কোণায় কয়েকটি
আস্ত শুকনো লঙ্কা রেখে দিলে পোকার আক্রমণ কমে যায়। গোলমরিচের গুঁড়ো সরাসরি বীজের
গায়ে মেখে দিলে তা এক ধরনের প্রাকৃতিক কীটনাশক হিসেবে কাজ করে। এটি বীজের ভ্রূণের
কোনো ক্ষতি করে না কিন্তু পোকার স্নায়ুতন্ত্রের ওপর প্রভাব ফেলে তাদের দূরে সরায়।
লবঙ্গ বা দারুচিনির মতো মশলাও বীজের বস্তায় রেখে দিলে এর উগ্র গন্ধ পোকা দমনে
সহায়তা করে থাকে। ঘরের মজুদকৃত বীজের জন্য এটি একটি অত্যন্ত ঘরোয়া এবং কার্যকরী
কৌশল যা কোনো বিষক্রিয়া ছড়ায় না। তবে এই পদ্ধতি প্রয়োগের পর বীজ বপনের সময় হাতে
গ্লাভস পরা ভালো যাতে জ্বালাপোড়া না হয়।
৭. রাসায়নিক কীটনাশক পাউডারের ব্যবহার
যখন বিপুল পরিমাণ বীজ বাণিজ্যিকভাবে সংরক্ষণ করা হয় তখন বিভিন্ন অনুমোদিত
রাসায়নিক পাউডার ব্যবহার করা হয়। ম্যালাথিয়ন বা ডেল্টামেথ্রিন জাতীয় পাউডার বীজের
সাথে নির্দিষ্ট অনুপাতে মিশিয়ে দিলে পোকার উপদ্রব পুরোপুরি বন্ধ হয়। এই
রাসায়নিকগুলো পোকার স্পর্শে আসামাত্রই তাদের মেরে ফেলে এবং দীর্ঘস্থায়ী সুরক্ষা
নিশ্চিত করে থাকে। তবে রাসায়নিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ
অনুযায়ী সঠিক মাত্রা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি একটি বিষয়। ভুল মাত্রায় বা অতিরিক্ত
বিষ ব্যবহারে বীজ মারা যেতে পারে অথবা পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।
রাসায়নিক মেশানো বীজের বস্তার গায়ে অবশ্যই লাল কালি দিয়ে ‘বিষ’ লিখে রাখা উচিত
যেন তা ভুলে কেউ না খায়। এই বীজগুলো কোনোভাবেই পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যাবে
না এবং এটি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে নাড়াচাড়া করতে হয়। সাধারণত বীজ কোম্পানিগুলো
প্যাকেটজাত করার আগে এই ধরনের রাসায়নিক ট্রিটমেন্ট বা বীজ শোধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন
করে।
৮. তেলের প্রলেপ বা কোটিং পদ্ধতি
ডাল জাতীয় বীজের ক্ষেত্রে ভোজ্য তেলের ব্যবহার একটি চমৎকার এবং পুরনো পদ্ধতি যা
এখনো কার্যকর। সামান্য পরিমাণ সরিষার তেল বা তিল তেল বীজের গায়ে মাখিয়ে দিলে পোকা
তার ওপর ডিম পাড়তে পারে না। তেলের প্রলেপ বীজের গায়ের ছিদ্রগুলো বন্ধ করে দেয় ফলে
পোকার লার্ভা অক্সিজেনের অভাবে ভেতরেই মারা যায়। এক কেজি বীজের জন্য মাত্র কয়েক
মিলিলিটার তেলই যথেষ্ট যা বীজের উজ্জ্বলতা বাড়ায় এবং সুরক্ষা দেয়। তেলের প্রলেপ
দেওয়া বীজগুলো পিচ্ছিল হওয়ার কারণে পোকা এক বীজ থেকে অন্য বীজে সহজে চলাচল করতে
পারে না। তবে অতিরিক্ত তেল ব্যবহার করলে বীজের স্বাভাবিক শ্বসন বাধাগ্রস্ত হতে
পারে তাই তেলের পরিমাণ ঠিক রাখা জরুরি। এই পদ্ধতিটি সম্পূর্ণ বিষমুক্ত হওয়ার
কারণে গৃহিণীরা বাড়িতে ডাল সংরক্ষণের জন্য এটি বেশি পছন্দ করে থাকেন। তেলের
প্রলেপ ব্যবহারের ফলে বীজে ছত্রাক সংক্রমণের ঝুঁকিও অনেক কমে যায় এবং বীজের
সজীবতা থাকে।
৯. গুদামের পরিচ্ছন্নতা ও বস্তার অবস্থান
শুধু বীজের বস্তায় উপাদান মেশালেই হবে না, যেখানে বস্তা রাখা হবে সেই জায়গাটি
পরিষ্কার থাকা আবশ্যক। বীজ সংরক্ষণের ঘরটি সবসময় শুকনো, ঠান্ডা এবং পর্যাপ্ত
আলো-বাতাস চলাচলের সুবিধাযুক্ত হওয়া প্রয়োজন।
স্যাঁতসেঁতে মেঝেতে সরাসরি বীজের
বস্তা না রেখে কাঠের মাচার ওপর রাখা উচিত যাতে নিচ থেকে আর্দ্রতা না পায়। দেওয়ালে
স্পর্শ না করিয়ে বস্তাগুলো সাজিয়ে রাখলে ইঁদুর বা পিঁপড়ের আক্রমণ থেকে বীজ রক্ষা
করা অনেক সহজ হয়। গুদামের ফাটল বা গর্তগুলো সিমেন্ট দিয়ে বন্ধ করে দিতে হবে যাতে
সেখানে পোকা লুকিয়ে থাকতে না পারে। পুরোনো বস্তা ব্যবহারের আগে তা রোদে ভালো করে
শুকিয়ে অথবা ফুটন্ত জলে ধুয়ে জীবাণুমুক্ত করে নেওয়া উচিত। গুদামে নিয়মিত
ফিউমিগেশন বা ধোঁয়া দিলে বাতাসের পোকা ও তাদের ডিম ধ্বংস হয়ে যায় যা বীজকে নিরাপদ
রাখে। সামগ্রিক পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলে বীজের বস্তায় পোকার উপদ্রব হওয়ার সম্ভাবনা
প্রায় অর্ধেক কমিয়ে আনা সম্ভব হয়।
আরো পড়ুন:কোন পুকুরে ধানী পোনা ছাড়া হয়
১০. আধুনিক ফিউমিগেশন বা গ্যাসীয় পদ্ধতি
বড় বড় গুদাম বা সাইলোতে বীজের সুরক্ষার জন্য অ্যালুমিনিয়াম ফসফাইড ট্যাবলেটের
মাধ্যমে ফিউমিগেশন করা হয়ে থাকে। এই ট্যাবলেটগুলো বাতাসের সংস্পর্শে এসে বিষাক্ত
ফসফিন গ্যাস তৈরি করে যা বস্তার ভেতরে সব ধরনের পোকা মেরে ফেলে। এটি অত্যন্ত
শক্তিশালী একটি পদ্ধতি যা শুধুমাত্র বিশেষজ্ঞ বা প্রশিক্ষিত ব্যক্তিদের
তত্ত্বাবধানে পরিচালনা করা উচিত। ফিউমিগেশনের সময় ঘরটি সম্পূর্ণ বায়ুরোধী করে
দেওয়া হয় যাতে গ্যাস বাইরে বেরিয়ে আসতে না পারে। কয়েক দিন পর ঘর খুলে দিলে গ্যাস
উড়ে যায় এবং বীজ পোকাযুক্ত থাকা সত্ত্বেও সম্পূর্ণ নিরাপদ হয়ে ওঠে। এই পদ্ধতিতে
পোকার ডিম, লার্ভা এবং পূর্ণাঙ্গ পোকা—সবই একসাথে ধ্বংস হয়ে যায় যা অন্য পদ্ধতিতে
কঠিন। তবে সাধারণ কৃষকদের জন্য এটি বিপজ্জনক হতে পারে বলে এটি মূলত বড় আকারের বীজ
ভাণ্ডারের জন্য ব্যবহৃত হয়। সঠিক সময় ও মাত্রায় গ্যাস প্রয়োগ করলে বীজের
অঙ্কুরোদগম ক্ষমতায় কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়ে না বলেই গবেষকরা মনে করেন।
১১.কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস (প্রতিরোধই মূল)
শুধুমাত্র কিছু মেশালেই হবে না, সংরক্ষণের প্রক্রিয়াটিও সঠিক হওয়া চাই:
ভালোভাবে শুকানো: বীজে আর্দ্রতা ১০% এর বেশি থাকলে পোকা দ্রুত বংশবিস্তার করে।
তাই কড়া রোদে বীজ ঝরঝরে করে শুকিয়ে নিতে হবে।
বায়ুরোধী পাত্র: প্লাস্টিকের ড্রাম, পলিব্যাগ বা টিনের পাত্রে মুখ ভালোভাবে আটকে
রাখলে বাতাস ঢুকতে পারে না, ফলে পোকা বাঁচে না।
পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা: যে বস্তায় বীজ রাখবেন সেটি যেন পুরনো বা পোকাযুক্ত না হয়।
নতুন বস্তা ব্যবহার করাই শ্রেয়।
সতর্কতা:
যদি বীজগুলো খাওয়ার জন্য (যেমন চাল বা ডাল) রাখা হয়, তবে কোনো ধরনের রাসায়নিক বিষ
মেশানো একদম উচিত নয়। সেক্ষেত্রে শুধুমাত্র প্রাকৃতিক পদ্ধতি যেমন নিম পাতা বা
চুন ব্যবহার করুন।



এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url