মাটির নিচের অতন্দ্র ধ্বংসকারী: উঁই পোকা

উই পোকা বা টারমাইট (Termite)—নামটা শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে ঝুরঝুরে কাঠের গুঁড়ো আর নষ্ট হয়ে যাওয়া পুরনো নথিপত্র। এরা নিঃশব্দে কাজ করে বলে এদের 'সাইলেন্ট ডেস্ট্রয়ার' বা অতন্দ্র ধ্বংসকারী বলা হয়।


​মাটির নিচে লুকিয়ে থেকে এরা যেভাবে একটি বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলে এবং মানুষের সম্পদের ক্ষতি করে, তা সত্যিই বিস্ময়কর। নিচে উই পোকা সম্পর্কে কিছু জরুরি তথ্য তুলে ধরা হলো:

পেজ সূচিপত্রঃমাটির নিচের অতন্দ্র ধ্বংসকারী: উঁই পোকা (Termites)


১উঁই পোকার পরিচিতি ও বৈশিষ্ট্য

উঁই পোকা হলো মাটির নিচে বসবাসকারী একটি অত্যন্ত সুসংগঠিত সামাজিক পতঙ্গ। এদেরকে প্রায়শই 'সাদা পিঁপড়া' বলা হলেও এরা আসলে তেলাপোকার নিকটাত্মীয় হিসেবে পরিচিত। এদের শরীর নরম এবং হালকা বর্ণের হয়ে থাকে যা মাটির নিচে বসবাসের উপযোগী। একটি কলোনিতে রাজা, রানী, শ্রমিক এবং সৈনিক—এই চার ধরনের সদস্য থাকে। রানী উঁই পোকা প্রতিদিন হাজার হাজার ডিম পেড়ে কলোনির সংখ্যা বৃদ্ধি করে থাকে। শ্রমিক উঁই পোকারা খাদ্য সংগ্রহ এবং বাসা তৈরির প্রধান দায়িত্ব পালন করে থাকে। সৈনিক উঁই পোকাদের কাজ হলো বাইরের শত্রু থেকে নিজের কলোনিকে রক্ষা করা। এরা আলোর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলে এবং অন্ধকার ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে থাকতে পছন্দ করে। মাটির গভীরে এদের উপস্থিতি সহজে শনাক্ত করা যায় না বলেই এরা বেশি বিপজ্জনক। এদের জীবনচক্র অত্যন্ত রহস্যময় এবং দীর্ঘস্থায়ী যা বিজ্ঞানীদের অবাক করে দেয় সব সময়।

২. উঁই পোকার বসবাসের পরিবেশ ও মাটির গঠন

উঁই পোকা সাধারণত মাটির নিচের স্তরে আদ্রতা ও অন্ধকার আছে এমন জায়গায় বাসা বাঁধে। এরা মাটির নিচে এক জটিল সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক তৈরি করে যা অনেক গভীরে বিস্তৃত হয়। এই সুড়ঙ্গগুলো তাদের যাতায়াতের রাস্তা এবং খাদ্যের উৎস পর্যন্ত পৌঁছানোর মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। মাটির আদ্রতা বজায় রাখতে এরা বিশেষ ধরনের কাদামাটি এবং নিজেদের লালা ব্যবহার করে। এদের বাসাকে 'মাউন্ড' বলা হয় যা মাটির উপরে ঢিবির মতোও দেখা যেতে পারে। শুষ্ক মাটির চেয়ে দোআঁশ বা বেলে মাটিতে এদের বিস্তার অনেক দ্রুত এবং সহজ হয়। মাটির গভীরে বাতাসের চলাচল ঠিক রাখতে এরা প্রকৌশলগতভাবে দক্ষ সুড়ঙ্গ তৈরি করে। প্রতিকূল আবহাওয়ায় এরা মাটির আরও গভীরে চলে যায় যাতে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এদের এই প্রকৌশলী দক্ষতা স্থাপত্যবিদ্যার গবেষকদের কাছেও এক অনন্য আলোচনার বিষয়। মাটি থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি সংগ্রহ করার চেয়ে এরা মাটিকে আশ্রয় হিসেবেই বেশি ব্যবহার করে।

৩. খাদ্যাভ্যাস ও সেলুলোজের প্রতি।

উঁই পোকার প্রধান খাদ্য হলো সেলুলোজ যা কাঠ এবং উদ্ভিদের কোষ প্রাচীরে পাওয়া যায়। এরা মূলত মৃত গাছপালা, গাছের গুঁড়ি, শুকনো পাতা এবং কাষ্ঠল বস্তু খেয়ে বেঁচে থাকে। এছাড়া কাগজ, কাপড় এবং কার্ডবোর্ডের মতো সামগ্রীও এদের অন্যতম প্রিয় খাদ্য উৎস। এদের পেটের ভেতর বিশেষ ধরনের প্রোটোজোয়া থাকে যা জটিল সেলুলোজ হজমে সাহায্য করে। সরাসরি সূর্যালোক এদের সহ্য হয় না বলে এরা সুড়ঙ্গের ভেতর দিয়ে খাদ্যের সন্ধানে বের হয়। ফসলের শিকড় বা কাণ্ড যদি সেলুলোজ সমৃদ্ধ হয় তবে এরা সেখানেও আক্রমণ চালায় দ্রুত। গৃহস্থালির আসবাবপত্রের বার্নিশ বা রং ভেদ করে এরা কাঠের ভেতরটা কুরে কুরে খেয়ে ফেলে। অনেক সময় দেখা যায় ওপর দিয়ে কাঠ ঠিক থাকলেও ভেতরে কোনো অস্তিত্ব অবশিষ্ট নেই। খাবারের সন্ধানে এরা দীর্ঘ পথ সুড়ঙ্গ খুঁড়তে পারে যা মাটির নিচের পরিবেশকে ওলটপালট করে। সেলুলোজের অভাব হলে এরা অনেক সময় অন্য জৈব উপাদানও গ্রহণ করতে দ্বিধা করে না।

৪. কৃষিক্ষেত্রে উঁই পোকার ক্ষতিকর প্রভাব

কৃষিজমিতে উঁই পোকা এক নীরব ঘাতক হিসেবে কাজ করে যা কৃষকের বড় ক্ষতির কারণ। বিশেষ করে ধান, গম, আখ এবং পাট চাষে উঁই পোকার উপদ্রব বেশি লক্ষ্য করা যায়। এরা গাছের প্রধান শিকড় কেটে দেয় ফলে গাছ প্রয়োজনীয় জল ও পুষ্টি পায় না। আক্রান্ত গাছ দ্রুত হলুদ হয়ে যায় এবং একসময় সম্পূর্ণ শুকিয়ে মাটিতে পড়ে মারা যায়। আখের রসে মিষ্টি থাকায় উঁই পোকা এই ফসলে সবচেয়ে বেশি আক্রমণ চালিয়ে থাকে প্রতিনিয়ত। নার্সারির ছোট চারাগাছগুলো এদের প্রিয় লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় বাগান করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায় মাঝেমাঝে। এরা মাটির নিচ থেকে আক্রমণ করে বলে কৃষক প্রথম দিকে ক্ষতির পরিমাণ বুঝতে পারে না। অনেক সময় পুরো ক্ষেতের ফসল নষ্ট হওয়ার পর কৃষকের নজরে আসে এই পোকার উপস্থিতি। এর ফলে ফসল উৎপাদন ব্যাপকভাবে হ্রাস পায় এবং কৃষকের আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সঠিক সময়ে ব্যবস্থা না নিলে এটি মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে পুরো এলাকায়।

৫. আসবাবপত্র ও ঘরবাড়িতে উঁই পোকার উপদ্রব

শুধুমাত্র ফসলের মাঠ নয়, মানুষের ঘরবাড়ি এবং মূল্যবান নথিপত্র নষ্ট করতেও উঁই পোকা অদ্বিতীয়। দরজার ফ্রেম, জানালার পাল্লা এবং আলমারির ভেতরের কাঠ এদের দ্বারা দ্রুত আক্রান্ত হয় সর্বদাই। এরা কংক্রিটের ফাটল দিয়েও ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়ে কাঠের আসবাবপত্রের ক্ষতি সাধন করতে পারে। গ্রন্থাগারের বইপত্র এবং গুরুত্বপূর্ণ ফাইলের সেলুলোজ এদের অন্যতম প্রধান খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয় মাঝেমধ্যেই। ঘরের মেঝে বা দেওয়াল ঘেঁষে কাদা মাটির সরু রাস্তা দেখলে বোঝা যায় উঁই পোকা বাসা বেঁধেছে। একবার কোনো আসবাবপত্রে উঁই লাগলে তা পুরোপুরি উদ্ধার করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে অধিকাংশ ক্ষেত্রে। আসবাবপত্রের ভেতরটা ফাঁপা করে দিয়ে এরা কাঠকে ভঙ্গুর এবং অকেজো করে ফেলে খুব অল্প সময়ে। দামি সেগুন বা মেহগনি কাঠও এদের হাত থেকে রেহাই পায় না যদি আর্দ্রতা থাকে। ঘরবাড়িতে উঁই পোকার সংক্রমণ বন্ধে নিয়মিত তদারকি এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া খুবই জরুরি। এই নীরব ধ্বংসযজ্ঞ রুখতে পরিবেশ সচেতন থাকা এবং সঠিক নির্মাণশৈলী ব্যবহার করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

৬. উঁই পোকা দমনে রাসায়নিক পদ্ধতি

উঁই পোকা দমনে বর্তমানে বিভিন্ন শক্তিশালী রাসায়নিক কীটনাশক বা টার্মিটিসাইড বাজারে বহুল প্রচলিত রয়েছে। ক্লোরপাইরিফস বা ইমিডাক্লোপ্রিড জাতীয় রাসায়নিক মাটির নিচে প্রয়োগ করলে কার্যকর ফল পাওয়া যায় দ্রুত। ঘর তৈরির সময় ভিত্তিমূলে এই রাসায়নিকের প্রলেপ দিলে উঁই পোকার আক্রমণ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। কাঠের আসবাবপত্রে বিষাক্ত কেমিক্যাল স্প্রে করে বা ইনজেক্ট করে এদের কলোনি ধ্বংস করা হয়। জমিতে সেচের পানির সাথে নির্দিষ্ট মাত্রার কীটনাশক মিশিয়ে দিলে মাটির নিচের পোকা মারা যায়। তবে রাসায়নিক পদ্ধতির অতিরিক্ত ব্যবহার পরিবেশ এবং মাটির উপকারী জীবাণুর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক মাত্রায় এবং সাবধানে এই কীটনাশক ব্যবহার করা উচিত সবসময়। রাসায়নিক দমনের পর নির্দিষ্ট সময় অন্তর পুনরায় পরীক্ষা করা প্রয়োজন যাতে পোকা ফিরে না আসে। বড় কোনো দালান বা খামারের ক্ষেত্রে পেশাদার পেস্ট কন্ট্রোল সার্ভিস নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ উপায়। এটি স্বল্প মেয়াদে কার্যকর হলেও দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষার জন্য অন্যান্য পদ্ধতির সাথে সমন্বয় করতে হয়।

৭. উঁই পোকা দমনে জৈবিক ও প্রাকৃতিক উপায়

পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে উঁই পোকা দমনে জৈবিক পদ্ধতি বর্তমানে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। নীম তেলের ব্যবহার উঁই পোকা তাড়ানোর একটি কার্যকর এবং সাশ্রয়ী প্রাকৃতিক ঘরোয়া উপায় হিসেবে পরিচিত। জমিতে নীম খৈল ব্যবহার করলে মাটির নিচের উঁই পোকা এবং অন্যান্য ক্ষতিকর পতঙ্গ দূরে থাকে। এছাড়া কিছু নির্দিষ্ট প্রজাতির ছত্রাক এবং নেমাটোড ব্যবহার করে উঁই পোকার কলোনি ধ্বংস করা সম্ভব। লবণের জল বা বোরিক অ্যাসিডের মিশ্রণও ছোট পরিসরে উঁই দমনে বেশ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। তামাক পাতার নির্যাস স্প্রে করলে উঁই পোকার শ্বাসতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং তারা এলাকা ত্যাগ করে। লেবু বা কমলার খোসার তেলও উঁই পোকার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সাহায্য করে প্রাকৃতিক উপায়ে। জৈবিক পদ্ধতিতে ক্ষতিকর প্রভাব কম থাকায় এটি সবজি চাষে বা বাগানে ব্যবহারের জন্য আদর্শ। মাটির উপকারী অনুজীবগুলো এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় না যা জমির স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের জন্য প্রাকৃতিক উপায়ের সাথে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কাজ একটি।

৮. উঁই পোকা দমনে কৃষকদের সচেতনতা

কৃষকদের মাঝে উঁই পোকার জীবনচক্র এবং এর ক্ষতির প্রকৃতি সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান থাকা আবশ্যক। অনেক সময় কৃষক বুঝতে দেরি করে ফেলেন ফলে ফসলের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যায় খুব দ্রুত। বীজ বপনের আগে জমি ভালোভাবে চাষ দিয়ে রোদ খাওয়ালে মাটির নিচের পোকা ধ্বংস হয়। পচা গোবর বা কাঁচা খড় জমিতে দিলে উঁই পোকার উপদ্রব বাড়ে, তাই এগুলো এড়িয়ে চলা উচিত। জমিতে সেচের সঠিক ব্যবস্থাপনা থাকলে উঁই পোকা সহজে আক্রমণ করতে পারে না আদ্রতার কারণে। আক্রান্ত গাছ দেখা মাত্রই তা তুলে নিয়ে ধ্বংস করা বা পুড়িয়ে ফেলা কৃষকের অন্যতম দায়িত্ব। দলগতভাবে গ্রাম বা এলাকায় উঁই দমনের প্রচার চালালে ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনা সম্ভব হয়। সরকারি কৃষি কর্মকর্তাদের সাহায্য নিয়ে আধুনিক দমন পদ্ধতি সম্পর্কে নিয়মিত প্রশিক্ষণ নেওয়া প্রয়োজন কৃষকদের। সঠিক সময়ে বীজ শোধন করে রোপণ করলে উঁই পোকার হাত থেকে ফসল রক্ষা পায় অনেকটা। কৃষকের সচেতনতাই পারে মাটির নিচের এই নীরব ঘাতকের হাত থেকে সোনালী ফসলকে বাঁচাতে।

৯. বাস্তুতন্ত্রে উঁই পোকার ভূমিকা: ভালো ও মন্দ

উঁই পোকাকে সাধারণত ক্ষতিকর বলা হলেও বাস্তুতন্ত্রে এদের কিছু ইতিবাচক ভূমিকা বা কাজও রয়েছে। এরা মাটির গভীর থেকে মাটি উপরে তুলে আনে যা মাটির বায়ু চলাচল বা ভেন্টিলেশন বৃদ্ধি করে। মৃত গাছপালা এবং পচা পাতা খেয়ে এরা মাটিকে দ্রুত জৈব সারে রূপান্তর করতে সাহায্য করে। এদের পরিত্যক্ত ঢিবিগুলো অনেক সময় অন্যান্য ছোট প্রাণীর আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করে বনে জঙ্গলে। বনাঞ্চলে উঁই পোকা প্রাকৃতিকভাবে জঙ্গল পরিষ্কার রাখার কাজ করে যা বন ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করে। তবে কৃষিজমি বা লোকালয়ে এদের উপস্থিতি উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করে থাকে মানুষের জন্য। তাই ভারসাম্য রক্ষা করে এদের নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন যাতে উপকার পাওয়া যায় আবার ক্ষতি না হয়। উঁই পোকার পুষ্টিগুণ থাকায় অনেক পাখি এবং সরীসৃপ এদের খাবার হিসেবে গ্রহণ করে জীবন বাঁচায়। বাস্তুতন্ত্রের খাদ্য শৃঙ্খলে উঁই পোকা একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এরা যেমন ধ্বংসাত্মক, প্রকৃতির দৃষ্টিতে তেমনই এরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সক্রিয় কর্মী।

১০. ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ ও উঁই পোকা নিয়ন্ত্রণ

জলবায়ু পরিবর্তন এবং ক্রমবর্ধমান নগরায়নের ফলে উঁই পোকার উপদ্রব ভবিষ্যতে আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। উঁই পোকারা প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকতে অত্যন্ত দক্ষ, যা বিজ্ঞানীদের জন্য নতুন চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে স্মার্ট টেকনোলজি এবং সেন্সর ব্যবহার করে মাটির নিচে উঁইয়ের উপস্থিতি শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। ভবিষ্যতে জিন এডিটিং বা বায়ো-টেকনোলজির মাধ্যমে উঁই পোকা দমনের আরও পরিবেশবান্ধব উপায় বের হবে। পরিবেশের ক্ষতি না করে কীভাবে এদেরকে নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে রাখা যায় তা নিয়ে গবেষণা চলছে। নগরায়নের ফলে বনাঞ্চল কমে যাওয়ায় এরা এখন মানুষের বসতবাড়িতে বেশি আক্রমণ করছে বলে ধারণা করা হয়। মাটির নিচের এই রহস্যময় জগতকে বোঝা এবং তার সাথে খাপ খাইয়ে চলা বড় চ্যালেঞ্জ। স্থায়িত্বশীল কৃষি এবং আধুনিক স্থাপত্যবিদ্যায় উঁই প্রতিরোধক ব্যবস্থা রাখা এখন বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়িয়েছে সবখানে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই ক্ষুদ্র প্রাণীর বিশাল ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশা করা যায়। উঁই পোকা নিয়ন্ত্রণ কেবল বিষ প্রয়োগ নয়, বরং এটি একটি সুশৃঙ্খল পরিবেশগত ব্যবস্থাপনাও বটে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url