পার্ল নাইট ক্রিম এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া



পার্ল নাইট ক্রিম বা মুক্তার নির্যাসযুক্ত নাইট ক্রিম বর্তমানে রূপচর্চায় বেশ জনপ্রিয়। তবে যেকোনো প্রসাধনী ব্যবহারের আগে তার ভালো এবং মন্দ উভয় দিক সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকা জরুরি 
পার্ল নাইট ক্রিম এর
আজকে আমাদের আর্টিকেলে পার্ল নাইট ক্রিম এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে সবকিছু সম্পর্কে বিস্তারিত দেওয়া আছে পার্ল  ক্রিম সম্পর্কে আমাদের সবারই জানা দরকার; তাহলে চলুন আজকে আমাদের অ্যাটিকেলটি পড়ে পার্ল নাইট ক্রিম এর সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন

পেজ সূচিপত্রঃপার্ল নাইট ক্রিম এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

১. ত্বকের জ্বালাপোড়া ও লালচে ভাব

পার্ল নাইট ক্রিমে অনেক সময় এমন কিছু সক্রিয় উপাদান থাকে যা ত্বকের প্রাকৃতিক তেলের ভারসাম্য নষ্ট করে দিতে পারে। বিশেষ করে যাদের ত্বক অতিরিক্ত সংবেদনশীল, তারা এই ক্রিম ব্যবহারের পর ত্বকে তীব্র জ্বালাপোড়া বা অস্বস্তি অনুভব করতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় ক্রিমটি লাগানোর কিছুক্ষণ পরই মুখ লাল হয়ে যায় যা প্রদাহের লক্ষণ। এটি মূলত ত্বকের উপরিভাগের কোষগুলোর সাথে ক্রিমের রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে ঘটে থাকে যা বেশ কষ্টদায়ক হতে পারে। সঠিক সময়ে ক্রিম ব্যবহার বন্ধ না করলে এই লালচে ভাব স্থায়ী হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। নিয়মিত ব্যবহারের ফলে ত্বকের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গিয়ে ত্বক পাতলা হয়ে যেতে পারে।

২. অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশন এবং ফুসকুড়ি

মুক্তার গুঁড়ো বা পার্ল পাউডারের প্রতি অনেকেরই অজান্তে অ্যালার্জি থাকতে পারে যা ত্বকের সংস্পর্শে এলে প্রকাশ পায়। এই ক্রিম ব্যবহারের ফলে কপালে বা গালে ছোট ছোট দানাদার ফুসকুড়ি বা র‍্যাশ দেখা দেওয়া খুবই সাধারণ একটি সমস্যা। অনেক সময় এই ফুসকুড়িগুলো চুলকানির সৃষ্টি করে এবং হাত দিলে ত্বকে খসখসে ভাব অনুভূত হয়। যারা প্রথমবার এই ক্রিম ব্যবহার করছেন তাদের জন্য প্যাচ টেস্ট করা বা কানের পেছনে সামান্য লাগিয়ে পরীক্ষা করা উচিত। অ্যালার্জির তীব্রতা বাড়লে মুখ ফুলে যাওয়া বা চোখের চারপাশ লাল হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটতে পারে। প্রসাধনীতে থাকা কৃত্রিম সুগন্ধি বা প্রিজারভেটিভ এই ধরনের অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়ার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়।

৩. ত্বকের শুষ্কতা এবং চামড়া ওঠা

নাইট ক্রিম সাধারণত ত্বককে হাইড্রেট করার কথা থাকলেও কিছু পার্ল নাইট ক্রিম ত্বকের আর্দ্রতা শুষে নিতে পারে। ক্রিমের উপাদানগুলো যদি উচ্চ মাত্রার হয়, তবে তা ত্বকের লিপিড লেয়ারকে ক্ষতিগ্রস্ত করে শুষ্কতা তৈরি করে। এর ফলে ত্বকের উপরিভাগ থেকে মরা চামড়া বা সাদাটে আস্তরণ উঠতে শুরু করতে পারে যা মেকআপের সময় স্পষ্ট হয়। শুষ্ক ত্বকের অধিকারীদের জন্য এই সমস্যাটি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বিশেষ করে শীতকালে। ত্বকের এই অতিরিক্ত শুষ্কতা থেকে বলিরেখা বা ফাইন লাইনস দ্রুত প্রকাশ পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। তাই পার্ল ক্রিম ব্যবহারের পর ত্বক টানটান অনুভূত হলে সেটি ত্বকের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

৪. ব্রণের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়া

কিছু পার্ল নাইট ক্রিম বেশ ভারী বা 'কমেডোজেনিক' প্রকৃতির হয়ে থাকে যা ত্বকের লোমকূপ বন্ধ করে দেয়।
পার্ল নাইট ক্রিম এর
যখন ত্বকের লোমকূপ বন্ধ হয়ে যায়, তখন ত্বকের ভেতরে তেল বা সিবাম জমে ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ ঘটায়। এর ফলে যারা তৈলাক্ত ত্বকের অধিকারী, তাদের ক্ষেত্রে নতুন করে ব্রণ বা হোয়াইটহেডস দেখা দিতে পারে। অনেক সময় সাধারণ ব্রণের পরিবর্তে বড় এবং পুঁজযুক্ত সিস্টিক ব্রণ হওয়ার প্রবণতাও লক্ষ্য করা যায় এই ক্রিমগুলোতে। পার্ল ক্রিমের উপাদানগুলো ত্বকের গভীরে গিয়ে ময়লার সাথে মিশে এই সমস্যার সৃষ্টি করে থাকে। তাই ব্রণ প্রবণ ত্বকে যেকোনো ধরনের ভারী নাইট ক্রিম ব্যবহারের আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

৫. পিগমেন্টেশন বা কালো দাগের সমস্যা

অনেকেই পার্ল ক্রিম ব্যবহার করেন ত্বক ফর্সা করার আশায়, কিন্তু ভুল ব্যবহারে এটি পিগমেন্টেশন বাড়িয়ে দিতে পারে। যদি ক্রিমে কোনো ধরনের ব্লিচিং এজেন্ট বা পারদ (Mercury) থাকে, তবে তা সাময়িকভাবে ফর্সা করলেও পরে কালো দাগ তৈরি করে। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শে এলে এই ক্রিম লাগানো ত্বক দ্রুত পুড়ে যায় বা সানবার্ন হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। ত্বকের নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় ছোপ ছোপ কালচে দাগ বা মেছতার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে নিয়মিত ব্যবহারে। এই মেলানোসাইট কোষগুলোর অস্বাভাবিক আচরণের ফলে ত্বকের স্বাভাবিক বর্ণ বৈষম্য তৈরি হয় যা দূর করা কঠিন। সঠিক মানের পণ্য না হলে প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা হারিয়ে ত্বক কালচে বা ফ্যাকাশে দেখাবে যা কাম্য নয়।

৬. ত্বকের পাতলা হয়ে যাওয়া ও সংবেদনশীলতা

বাজারে প্রচলিত নিম্নমানের পার্ল নাইট ক্রিমগুলোতে অনেক সময় স্টেরয়েড মেশানো থাকে যা দ্রুত ফলাফল দেয়। স্টেরয়েড মিশ্রিত ক্রিম দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে ত্বকের ডার্মিস স্তর পাতলা হয়ে যায় এবং রক্তনালী দৃশ্যমান হতে পারে। এর ফলে ত্বক এতটাই সংবেদনশীল হয়ে পড়ে যে সাধারণ রোদে গেলে বা চুলার আগুনের কাছে গেলে মুখ জ্বলে। ত্বক পাতলা হয়ে গেলে সামান্য আঘাতেই দাগ পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে এবং প্রাকৃতিক নিরাময় ক্ষমতা কমে যায়। এই অবস্থাটি দীর্ঘমেয়াদী এবং একবার ত্বক পাতলা হয়ে গেলে তা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ। তাই চটকদার বিজ্ঞাপনে প্রলুব্ধ না হয়ে উপকরণের তালিকা দেখে ক্রিম নির্বাচন করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

৭. হরমোনাল ভারসাম্যহীনতা ও অভ্যন্তরীণ প্রভাব

ত্বকের উপরে লাগানো ক্রিম কেবল বাইরেই সীমাবদ্ধ থাকে না, এর রাসায়নিক উপাদানগুলো রক্তে মিশে যেতে পারে।
পার্ল নাইট ক্রিম এর
বিশেষ করে পারদ বা সিসা যুক্ত পার্ল ক্রিমগুলো দীর্ঘমেয়াদে হরমোনের ওপর প্রভাব ফেলতে সক্ষম বলে গবেষণায় দেখা গেছে। এটি অন্তঃসত্ত্বা নারীদের ক্ষেত্রে ভ্রূণের ক্ষতি করতে পারে এবং সাধারণ ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে ক্লান্তি বা মাথাব্যথা সৃষ্টি করতে পারে। লিভার বা কিডনির ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলার মতো ক্ষতিকারক রাসায়নিকও অনেক সময় নিম্নমানের ক্রিমে পাওয়া যায়। সৌন্দর্য চর্চার চেয়ে স্বাস্থ্য সুরক্ষা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ, যা আমরা অনেক সময় ভুলে যাই প্রসাধনী কেনাকাটায়। তাই কোনো পণ্য ব্যবহারের পর শারীরিক অস্বস্তি অনুভব করলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত হবে।

৮. আসক্তি এবং ব্যবহার বন্ধে বিরূপ প্রতিক্রিয়া

পার্ল নাইট ক্রিমের অন্যতম বড় সমস্যা হলো এর ওপর ত্বকের নির্ভরশীলতা বা এক ধরনের আসক্তি তৈরি হওয়া। অনেক সময় ব্যবহারকারী যখন ক্রিমটি লাগানো বন্ধ করে দেন, তখন ত্বক আগের চেয়েও বেশি কালো বা অনুজ্জ্বল হয়ে যায়। এটি মূলত ক্রিমের রাসায়নিকের প্রভাব যা ত্বককে কৃত্রিমভাবে সতেজ রাখে কিন্তু বন্ধ করলে আসল রূপ বেরিয়ে আসে। এই চক্রের ফলে ব্যবহারকারী দীর্ঘকাল ধরে ক্ষতিকারক পণ্যটি ব্যবহার করতে বাধ্য হন যা ত্বকের অপূরণীয় ক্ষতি করে। ব্যবহার বন্ধের পর মুখে চুলকানি, লালভাব বা ব্রণের জোয়ার আসার ঘটনাও অনেকের ক্ষেত্রে লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘমেয়াদী সুস্বাস্থ্যের জন্য সাময়িক উজ্জ্বলতার পেছনে না ছুটে প্রাকৃতিক যত্নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url