সেন্টমার্টিন দ্বীপ কত কিলোমিটার ও দেখতে কেমন
বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। নীল দিগন্তের জলরাশি আর নারকেল
গাছের সারি ঘেরা এই দ্বীপটি পর্যটকদের কাছে "নারকেল জিঞ্জিরা" নামেও পরিচিত। এর
ভৌগোলিক আয়তন এবং সৌন্দর্যের একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
আপনারা যারা সেন্টমার্টিন দ্বীপ ঘুরতে যেতে চাচ্ছেন তাদের জন্য আজকের
আর্টিকেলটি। আজকের আর্টিকেলটি পড়ে আপনারা জানতে পারবেন সেন্টমার্টিন দ্বীপ কত
কিলোমিটার ও দেখতে কেমন?
পেজ সূচিপত্র:সেন্টমার্টিন দ্বীপ কত কিলোমিটার ও দেখতে কেমন
- ভৌগোলিক অবস্থান ও আয়তন
- দ্বীপের অনন্য ভূ-প্রকৃতি
- নারিকেল জিঞ্জিরার সৌন্দর্য
- ছেঁড়াদ্বীপের মোহনীয় রূপ।
- স্বচ্ছ জলরাশি ও সমুদ্র
- জীববৈচিত্র্য ও সামুদ্রিক প্রাণ
- স্থানীয় জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতি
- পর্যটন ও যাতায়াত ব্যবস্থা
- পরিবেশগত ঝুঁকি ও সচেতনতা
- ভ্রমণের সেরা সময় ও পরামর্শ
- উপসংহার
ভৌগোলিক অবস্থান ও আয়তন
সেন্টমার্টিন দ্বীপ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্ব অংশে
অবস্থিত একটি ক্ষুদ্র প্রবাল দ্বীপ।
ভৌগোলিক মানচিত্রে এটি কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার অন্তর্ভুক্ত একটি অত্যন্ত
জনপ্রিয় ও আকর্ষণীয় ইউনিয়ন।
দ্বীপটির মোট আয়তন জোয়ার-ভাটার ওপর ভিত্তি করে পরিবর্তিত হলেও সাধারণভাবে এটি
প্রায় ৮ বর্গকিলোমিটার এলাকা।
উত্তর-দক্ষিণে লম্বা এই দ্বীপটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৫.৬৩ কিলোমিটার এবং এর প্রস্থ
অত্যন্ত কম ও বৈচিত্র্যময়।
দ্বীপের উত্তর অংশ বেশ প্রশস্ত হলেও মধ্যভাগ বা গলচিপা এলাকাটি অত্যন্ত সরু এবং
সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে।
এই সরু অংশের প্রস্থ কোথাও কোথাও মাত্র কয়েকশ মিটার যা দ্বীপটিকে একটি চশমার
আকৃতি দান করেছে।
ভাটার সময় দ্বীপের আয়তন অনেকটা বেড়ে যায় এবং বিশাল বালুচর সমুদ্রের বুক থেকে জেগে
উঠতে দেখা যায়।বিপরীতে জোয়ারের সময় দ্বীপের অনেক নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে গিয়ে এর
দৃশ্যমান আয়তন অনেকটা কমিয়ে দেয়।মূল ভূখণ্ড টেকনাফ থেকে এই দ্বীপটির দূরত্ব প্রায়
৯ কিলোমিটার যা নাফ নদীর মোহনায় অবস্থিত।এই ক্ষুদ্র আয়তনের মধ্যেই দ্বীপটি তার
অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নিয়ে পর্যটকদের প্রতিনিয়ত মুগ্ধ করে চলেছে।
দ্বীপের অনন্য ভূ-প্রকৃতি
সেন্টমার্টিন দ্বীপটি মূলত একটি পাথুরে এবং প্রবাল সমৃদ্ধ ভূমি যা দেখতে অত্যন্ত
মনোরম ও নয়নকাড়া।
এর চারপাশ ঘিরে রয়েছে স্বচ্ছ নীল জলরাশি যা আকাশের নীল রঙের সাথে মিলে একাকার হয়ে
যায়।
দ্বীপের সৈকতজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অসংখ্য ছোট-বড় মৃত প্রবাল এবং বিচিত্র আকৃতির
সব সামুদ্রিক পাথর।
সৈকতের বালু ধবধবে সাদা এবং মিহি যা পর্যটকদের খালি পায়ে হাঁটতে এক দারুণ
প্রশান্তি দেয়।দ্বীপের ভেতরে অসংখ্য নারিকেল গাছ সারি সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থেকে
এক স্নিগ্ধ ছায়া প্রদান করে থাকে।
এই দ্বীপে প্রচুর কেয়া বন রয়েছে যা মাটির ক্ষয় রোধ করে এবং প্রাকৃতিক দেয়াল
হিসেবে কাজ করে।
দ্বীপের মাঝখানে রয়েছে কিছু কৃষি জমি এবং ছোট ছোট জলাশয় যেখানে স্থানীয়রা চাষাবাদ
করে থাকে।
এর চারপাশে সমুদ্রের ঢেউ যখন প্রবাল পাথরের গায়ে আছড়ে পড়ে তখন সাদা ফেনার সৃষ্টি
হয়।
পাথুরে সৈকত এবং বালুকাময় সৈকতের এই মিশ্রণ সেন্টমার্টিনকে বিশ্বের অন্যান্য
দ্বীপ থেকে আলাদা করেছে।
সব মিলিয়ে দ্বীপটি দেখতে একটি জলজ উদ্যানের মতো যা সাগরের নীল দিগন্তে ভেসে
রয়েছে।
নারিকেল জিঞ্জিরার সৌন্দর্য
স্থানীয় মানুষের কাছে এই দ্বীপটি 'নারিকেল জিঞ্জিরা' নামে পরিচিত কারণ এখানে
প্রচুর নারিকেল গাছ আছে।
দ্বীপের প্রতিটি কোণে নারিকেল গাছের আধিক্য একে একটি গ্রীষ্মমন্ডলীয় স্বর্গের
রূপ দান করেছে প্রতিনিয়ত।
দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন সমুদ্রের মাঝে একটি ছোট নারিকেল বাগান ভেসে আছে
শান্তভাবে।
নারিকেল গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে যখন সূর্যের আলো পড়ে তখন এক মায়াবী পরিবেশ তৈরি
হয়।
পর্যটকরা এই গাছের নিচে বসে সমুদ্রের গর্জন শুনতে এবং ডাবের মিষ্টি পানি খেতে
পছন্দ করেন।
দ্বীপের বাতাস সবসময় নারিকেল পাতার খসখস শব্দে মুখরিত থাকে যা মনকে এক শান্ত ভাব
দেয়।
এই গাছগুলো দ্বীপের বাসিন্দাদের জন্য শুধু সৌন্দর্য নয় বরং আয়ের একটি বড় উৎস
হিসেবে কাজ করে।
ডাব এবং নারিকেল এই দ্বীপের প্রধান কৃষিজাত পণ্য যা পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত
জনপ্রিয় ও উপাদেয়।
সবুজ নারিকেল বাগান আর নীল সমুদ্রের এই সংমিশ্রণ সেন্টমার্টিনকে এক অনন্য
দৃশ্যপটে পরিণত করেছে।
প্রকৃতির এই দান সেন্টমার্টিনকে একটি সজীব এবং প্রাণবন্ত দ্বীপ হিসেবে টিকিয়ে
রেখেছে বছরের পর বছর।
ছেঁড়াদ্বীপের মোহনীয় রূপ
সেন্টমার্টিন দ্বীপের একেবারে দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত বিচ্ছিন্ন একটি অংশের নাম
হলো আকর্ষণীয় ছেঁড়াদ্বীপ।
জোয়ারের সময় এই অংশটি মূল দ্বীপ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বলেই একে ছেঁড়াদ্বীপ বলা
হয়ে থাকে।
এটি মূলত প্রবাল পাথরের একটি স্তূপ যেখানে কোনো স্থায়ী জনবসতি বা মানুষের ঘরবাড়ি
নেই।
ছেঁড়াদ্বীপের চারপাশের পানি সেন্টমার্টিনের চেয়েও অনেক বেশি স্বচ্ছ এবং গাঢ় নীল
বর্ণের হয়ে থাকে।
এখানে প্রবালগুলো অনেক বেশি সজীব এবং পানির নিচে রঙিন মাছের আনাগোনা স্পষ্ট দেখা
যায়।
পর্যটকরা সাধারণত ট্রলারে করে বা ভাটার সময় হেঁটে এই নির্জন দ্বীপে ঘুরতে চলে
আসেন।
এই দ্বীপের পাথরের খাঁজে ছোট ছোট কাঁকড়া এবং সামুদ্রিক প্রাণীদের বিচরণ দেখতে
পাওয়া যায়।
এখানে দাঁড়িয়ে সমুদ্রের অসীম নীল দিগন্ত দেখলে এক অন্যরকম রোমাঞ্চকর অনুভূতি
সৃষ্টি হয় মনে।
ছেঁড়াদ্বীপ বাংলাদেশের মানচিত্রের দক্ষিণতম বিন্দু হিসেবে এক বিশেষ ভৌগোলিক
গুরুত্ব বহন করে থাকে।
প্রকৃতির এই আদিম এবং শান্ত রূপ উপভোগ করতে ভ্রমণপিপাসুরা এখানে ভিড় জমান সবসময়।
স্বচ্ছ জলরাশি ও সমুদ্র
সেন্টমার্টিন দ্বীপের প্রধান আকর্ষণ হলো এর চারপাশের কাঁচের মতো স্বচ্ছ এবং নীল
লোনা পানি।
পানির নিচে থাকা ছোট ছোট পাথর এবং মাছগুলো ওপর থেকেই পরিষ্কারভাবে দেখা সম্ভব হয়।
সমুদ্রের এই নীল রঙ ঋতুভেদে পরিবর্তিত হয়ে গভীর নীল থেকে হালকা সবুজাভ আকার নেয়।
শান্ত সমুদ্রের ঢেউ যখন বালুচরে আছড়ে পড়ে তখন এক শান্ত সংগীতের সৃষ্টি হয় সৈকতে।
সকালবেলার সূর্যের আলো যখন স্বচ্ছ পানিতে পড়ে তখন পুরো সমুদ্র ঝিলমিল করে ওঠে
রূপালি রঙে।
বিকেলে সূর্যাস্তের সময় সমুদ্রের পানি সোনালী বর্ণ ধারণ করে যা এক স্বর্গীয় দৃশ্য
তৈরি করে।
পর্যটকরা এই স্বচ্ছ পানিতে গোসল করতে এবং সাঁতার কাটতে অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্য বোধ
করেন সারাদিন।
এখানে সাগরের গভীরতা তীরের কাছাকাছি বেশ কম হওয়ায় এটি নিরাপদ একটি পর্যটন
কেন্দ্র।
সমুদ্রের ঢেউ আর নির্মল বাতাসের মিতালী পর্যটকদের সব ক্লান্তি দূর করে দেয়
নিমিষেই।
এই নীল জলরাশির টানেই মানুষ বারবার ছুটে আসে সাগরের এই নির্জন প্রবাল দ্বীপে।
জীববৈচিত্র্য ও সামুদ্রিক প্রাণ
সেন্টমার্টিন দ্বীপটি জীববৈচিত্র্যের এক বিশাল ভাণ্ডার হিসেবে প্রকৃতি প্রেমীদের
কাছে পরিচিত।
এখানে বিভিন্ন প্রজাতির জীবন্ত প্রবাল রয়েছে যা সমুদ্রের বাস্তুসংস্থান রক্ষা
করতে সাহায্য করে।
সামুদ্রিক কচ্ছপ এই দ্বীপের নির্জন সৈকতে ডিম পাড়তে আসে যা এক অনন্য দৃশ্য।
রঙিন মাছ, অক্টোপাস এবং বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক কাঁকড়া এই দ্বীপের আশেপাশে বাস
করে।
শীতকালে এখানে বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখির আনাগোনা দেখা যায় যা দ্বীপে
প্রাণসঞ্চার করে।
সি-গাল পাখিরা জাহাজের পিছু পিছু ওড়ে এবং পর্যটকদের কাছ থেকে খাবার সংগ্রহ করে
নেয়।
দ্বীপের কেয়া বনে নানা ধরনের ছোট পাখি এবং পতঙ্গের বিচরণ চোখে পড়ে সবসময়।
সমুদ্রের নিচে থাকা শৈবাল এবং প্রবাল প্রাচীরগুলো সামুদ্রিক মাছের নিরাপদ
আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করে।
প্রাকৃতিক এই ভারসাম্য দ্বীপটিকে পরিবেশগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং
সংবেদনশীল করে তুলেছে।
এই জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা আমাদের সকলের দায়িত্ব যাতে সেন্টমার্টিন তার প্রাণ
ফিরে পায়।
আরো পড়ুন:কোন পুকুরে ধানী পোনা ছাড়া হয়
স্থানীয় জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতি
সেন্টমার্টিন দ্বীপের স্থানীয় অধিবাসীরা অত্যন্ত পরিশ্রমী এবং সহজ-সরল জীবনযাপন
করে থাকেন।
তাদের প্রধান পেশা হলো মাছ ধরা এবং পর্যটন মৌসুমে পর্যটকদের বিভিন্ন সেবা প্রদান
করা।
জেলেরা প্রতিদিন বড় বড় ট্রলার নিয়ে গভীর সমুদ্রে যায় মাছ শিকার করার উদ্দেশ্যে।
দ্বীপের বাজারে প্রচুর পরিমাণে তাজা সামুদ্রিক মাছ এবং শুঁটকি বিক্রি হতে দেখা
যায়।
স্থানীয় মানুষজন নিজেদের মধ্যে খুব একতাবদ্ধ এবং তারা পর্যটকদের সাথে
বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করেন।
এখানে শিক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ কিছুটা কম হলেও তারা প্রকৃতির সাথে মানিয়ে চলেছেন।
দ্বীপের ঘরবাড়িগুলো মূলত কাঠ, বাঁশ এবং নারিকেল পাতা দিয়ে তৈরি যা দেখতে সুন্দর।
তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস এবং সংস্কৃতিতে সমুদ্রের এক বিশাল প্রভাব লক্ষ্য করা যায়
প্রতিনিয়ত।
দ্বীপের শান্ত পরিবেশে তাদের জীবনযাত্রা ধীরস্থির এবং কোলাহলমুক্ত যা খুবই চমৎকার
লাগে।
পর্যটকদের সংস্পর্শে এসে তাদের অর্থনৈতিক অবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে গত কয়েক
দশকে।
পর্যটন ও যাতায়াত ব্যবস্থা
প্রতি বছর নভেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের প্রধান মৌসুম
চলে।
টেকনাফ থেকে বিশাল সব বিলাসবহুল জাহাজে করে পর্যটকরা এই দ্বীপে যাতায়াত করে
থাকেন।
নাফ নদী দিয়ে জাহাজে করে
যাওয়ার সময় দুপাশের পাহাড়ের দৃশ্য খুবই মনোহর লাগে।
জাহাজে প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় লাগে দ্বীপে পৌঁছাতে যা এক রোমাঞ্চকর
যাত্রা।
দ্বীপে চলাচলের জন্য কোনো ইঞ্জিনচালিত গাড়ি নেই তবে সাইকেল বা ভ্যান পাওয়া যায়।
পর্যটকদের থাকার জন্য দ্বীপে অনেক সুন্দর সুন্দর রিসোর্ট এবং কটেজ গড়ে তোলা
হয়েছে।
রাতের বেলা সৈকতে বারবিকিউ পার্টি করা পর্যটকদের কাছে একটি বড় বিনোদন হিসেবে
পরিচিত।
পূর্ণিমা রাতে সেন্টমার্টিনের রূপ দেখার জন্য অনেক মানুষ আগে থেকেই রুম বুক করেন।
পর্যটন শিল্পের প্রসারের ফলে দ্বীপটি আধুনিক বিশ্বের সাথে যুক্ত হওয়ার সুযোগ
পেয়েছে।
সুষ্ঠু যাতায়াত ব্যবস্থা সেন্টমার্টিনকে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ভ্রমণ গন্তব্যে
পরিণত করেছে।
পরিবেশগত ঝুঁকি ও সচেতনতা
সেন্টমার্টিন দ্বীপটি বর্তমানে পরিবেশগতভাবে অনেক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে যা আমাদের
ভাবনার বিষয়।
অতিরিক্ত পর্যটকদের চাপ এবং প্লাস্টিক বর্জ্যের কারণে দ্বীপের সৌন্দর্য দিন দিন
ম্লান হচ্ছে।
প্লাস্টিক বোতল এবং পলিথিন সমুদ্রের পানিতে মিশে প্রবাল ও সামুদ্রিক প্রাণীর
ক্ষতি করছে।
অসচেতনভাবে প্রবাল পাথর তোলা এবং কেয়া গাছ কেটে ফেলা দ্বীপের জন্য বিপদজনক।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় দ্বীপটি ডুবে যাওয়ার
ঝুঁকিতে রয়েছে।
সরকার এই দ্বীপটিকে একটি পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছে ইতিমধ্যে।
আমাদের উচিত দ্বীপে গিয়ে কোনো ময়লা না ফেলা এবং পরিবেশের ক্ষতি না করা।
নির্দিষ্ট স্থানে আবর্জনা ফেলা এবং প্রবাল রক্ষা করা প্রত্যেক পর্যটকের নৈতিক
দায়িত্ব হওয়া উচিত।
সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে এই প্রাকৃতিক সম্পদকে দীর্ঘকাল টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে আমাদের
জন্য।
আসুন আমরা সেন্টমার্টিনকে ভালোবাসি এবং এর প্রাকৃতিক পবিত্রতা রক্ষা করতে সচেষ্ট
হই।
ভ্রমণের সেরা সময় ও পরামর্শ
সেন্টমার্টিন ভ্রমণের সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হলো শীতকাল যখন আকাশ ও সমুদ্র শান্ত
থাকে।
অক্টোবরের শেষ থেকে এপ্রিলের শুরু পর্যন্ত সময়টি এখানে ঘোরার জন্য সবচেয়ে
আরামদায়ক।
বর্ষাকালে সমুদ্র অত্যন্ত উত্তাল থাকে বলে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়
সাধারণত।
ভ্রমণে যাওয়ার আগে অবশ্যই জাহাজের টিকিট এবং হোটেলের রুম বুকিং নিশ্চিত করে নিন।
সাথে রোদের জন্য ছাতা, সানগ্লাস এবং প্রয়োজনীয় ঔষধপত্র রাখা সবসময় বুদ্ধিমানের
কাজ।
দ্বীপের মিষ্টি পানির অভাব থাকায় পানি ব্যবহারে মিতব্যয়ী হওয়া অত্যন্ত জরুরি একটি
বিষয়।
স্থানীয় মানুষের সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা রাখা এবং পরিবেশের নিয়ম কানুন মেনে চলা
উচিত।
ছেঁড়াদ্বীপ যাওয়ার সময় অবশ্যই ভাটার সময় জেনে নেওয়া নিরাপদ ভ্রমণের জন্য
গুরুত্বপূর্ণ।
বন্ধুবান্ধব বা পরিবারের সাথে এই দ্বীপে ভ্রমণ আপনার জীবনের এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা
হবে।
সেন্টমার্টিন হলো প্রকৃতির এক অমূল্য দান যা আমাদের অন্তরকে প্রশান্তিতে ভরিয়ে
দেয় সবসময়।
উপসংহার
সেন্টমার্টিন কেবল একটি ভূখণ্ড নয়, বরং প্রকৃতির এক অমূল্য দান। সমুদ্রের নীল আর
আকাশের নীলের যে অপূর্ব মিতালী এখানে দেখা যায়, তা অন্য কোথাও মেলা ভার। তবে এই
সৌন্দর্য টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব আমাদেরই। প্লাস্টিক বর্জন এবং প্রবালের ক্ষতি না
করার মাধ্যমে আমরা যদি এই দ্বীপকে রক্ষা করতে পারি, তবেই আগামী প্রজন্ম এই
'বাংলার রত্ন'-কে দেখার সুযোগ পাবে। সেন্টমার্টিন ভ্রমণ মানেই নাগরিক ব্যস্ততা
ভুলে প্রকৃতির হৃদস্পন্দন অনুভব করা।



এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url