শুষনি শাক খেলে কি কিহয় কেন খাব এর উপকারিতা
শুষনি শাক (Sushni Shak) বাংলার এক অবহেলিত অথচ বিস্ময়কর ঔষধি গুণসম্পন্ন শাক।
বিশেষ করে অনিদ্রা দূর করতে এবং মস্তিষ্ককে শান্ত রাখতে এর জুড়ি মেলা ভার। আপনি
এই শাকের উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাসছেন
তাহলে আজকে আমাদের এই আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়তে থাকুন আজকে আমাদের
আটিকেলে শুষনি শাক খেলে কি হয় এবং কেন খাবেনের উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত
সবকিছু দেওয়া আছে
পেজ সূচিপত্রঃশুষনি শাক খেলে কি কিহয় কেন খাব এর উপকারিতা
- প্রাকৃতিক ঘুমের ওষুধ হিসেবে শুষনি শাক
- উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী ভূমিকা
- স্মৃতিশক্তি ও বুদ্ধিমত্তা বৃদ্ধিতে সহায়ক
- মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা উপশম
- ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে প্রাকৃতিক সুরক্ষা
- হজমশক্তি বৃদ্ধি ও লিভারের সুরক্ষা
- শ্বাসকষ্ট ও হাঁপানি প্রতিরোধে কার্যকারিতা
- হাড় ও দাঁতের মজবুত গঠন
- ত্বকের উজ্জ্বলতা ও চর্মরোগ নিরাময়
- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে অনন্য
১. প্রাকৃতিক ঘুমের ওষুধ হিসেবে শুষনি শাক
শুষনি শাকের সবচেয়ে বড় গুণ হলো এটি অনিদ্রা বা ইনসোমনিয়া দূর করতে সাহায্য করে।
এই শাকে থাকা প্রাকৃতিক সেডেটিভ উপাদান স্নায়ুকে শিথিল করে এবং দ্রুত গভীর ঘুম
আসতে সাহায্য করে। যারা রাতের পর রাত জেগে থাকেন বা ঘুমের ওষুধের ওপর নির্ভরশীল,
তারা নিয়মিত শুষনি শাক খেলে প্রাকৃতিক উপায়েই প্রশান্তির ঘুম পেতে পারেন। এটি
মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাসকে শান্ত রাখে যা ঘুমের চক্র নিয়ন্ত্রণে প্রধান ভূমিকা
পালন করে।
২. উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী ভূমিকা
আধুনিক জীবনের অন্যতম অভিশাপ হলো উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন। শুষনি শাক রক্তচাপ
নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কার্যকর কারণ এটি রক্তনালীকে প্রসারিত করতে এবং রক্ত সঞ্চালন
স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। এতে থাকা খনিজ উপাদানগুলো হৃদপিণ্ডের ওপর বাড়তি চাপ
কমায়। নিয়মিত এই শাক খেলে উচ্চ রক্তচাপজনিত জটিলতা যেমন স্ট্রোক বা হার্ট
অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসে।
৩. স্মৃতিশক্তি ও বুদ্ধিমত্তা বৃদ্ধিতে সহায়ক
মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়াতে শুষনি শাকের ব্যবহার যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। এটি
মস্তিষ্কের কোষগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করে এবং মনোযোগের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। বিশেষ
করে বাড়ন্ত শিশুদের মেধা বিকাশে এবং বয়স্কদের আলঝেইমার্স বা স্মৃতিভ্রম রোগ
প্রতিরোধে এটি দারুণ কাজ করে। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে এটিকে 'মেধা বর্ধক' হিসেবে
চিহ্নিত করা হয়েছে যা বুদ্ধিদীপ্ত করতে সাহায্য করে।
৪. মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা উপশম
বর্তমানে আমাদের জীবনের বড় অংশ জুড়ে থাকে মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ। শুষনি শাকের রস
বা ভাজি খেলে শরীরের কর্টিসল হরমোনের মাত্রা কমে, যা মানসিক প্রশান্তি আনে। এটি
এক ধরণের অ্যাডাপ্টোজেনিক উদ্ভিদ হিসেবে কাজ করে, যা শরীরকে বাহ্যিক চাপের সাথে
মানিয়ে নিতে সাহায্য করে। খিটখিটে মেজাজ বা অহেতুক ভয় পাওয়ার সমস্যা দূর করতে এই
শাক মহৌষধ হিসেবে কাজ করে।
৫. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে প্রাকৃতিক সুরক্ষা
রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে শুষনি শাক বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এটি
ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে, ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা হঠাৎ করে
বেড়ে যায় না।
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি একটি নিরাপদ এবং পুষ্টিকর খাবার।
খাবারের তালিকায় নিয়মিত এই শাক রাখলে দীর্ঘমেয়াদে সুগার লেভেল স্বাভাবিক রাখা সহজ
হয়।
৬. হজমশক্তি বৃদ্ধি ও লিভারের সুরক্ষা
পেটের গোলযোগ বা হজমের সমস্যায় যারা ভুগছেন, তাদের জন্য শুষনি শাক খুবই উপকারী।
এটি পাকস্থলীর এনজাইম নিঃসরণকে উন্নত করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে।
এছাড়াও এটি লিভারকে ডিটক্সিফাই করতে বা বিষমুক্ত করতে কাজ করে। লিভারের
কার্যক্ষমতা ঠিক থাকলে শরীরের সামগ্রিক বিপাক প্রক্রিয়া সচল থাকে এবং শরীর ঝরঝরে
অনুভূত হয়।
৭. শ্বাসকষ্ট ও হাঁপানি প্রতিরোধে কার্যকারিতা
শুষনি শাক ফুসফুসের কার্যকারিতা বাড়াতে এবং শ্বাসনালীর প্রদাহ কমাতে সহায়ক। যাদের
হালকা শ্বাসকষ্ট বা ক্রনিক অ্যাজমার সমস্যা আছে, তারা এই শাক খেলে আরাম পেতে
পারেন। এটি শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ বাড়াতে সাহায্য করে এবং কফ বা শ্লেষ্মা
পরিষ্কার করতে ভূমিকা রাখে। বর্ষা বা শীতকালীন ঋতু পরিবর্তনের সময় ঠান্ডা লাগা
প্রতিরোধে এটি ভালো কাজ করে।
৮. হাড় ও দাঁতের মজবুত গঠন
এই শাকে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাস পাওয়া যায়, যা হাড়ের স্বাস্থ্যের
জন্য অপরিহার্য। নিয়মিত এটি খেলে হাড়ের ক্ষয়রোগ বা অস্টিওপরোসিস হওয়ার সম্ভাবনা
কমে যায়। দাঁতের এনামেল শক্ত করতে এবং মাড়ির সমস্যা দূর করতেও এর পুষ্টিগুণ কাজ
করে। বিশেষ করে মধ্যবয়সী নারীদের হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য শুষনি শাক
অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
৯. ত্বকের উজ্জ্বলতা ও চর্মরোগ নিরাময়
শুষনি শাকের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান শরীর থেকে ক্ষতিকর ফ্রি-র্যাডিক্যাল বের
করে দেয়, যার ফলে ত্বক ভেতর থেকে উজ্জ্বল হয়। এটি ব্রণ বা ত্বকের অ্যালার্জি জনিত
সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।
এমনকি পুরাতন ঘা শুকাতে বা ত্বকের জ্বালাপোড়া কমাতে
এই শাকের বাটা প্রলেপ হিসেবেও ব্যবহার করা হয়। রক্ত পরিষ্কার রাখার মাধ্যমে এটি
ত্বকের অকাল বার্ধক্য রোধ করে।
১০. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে অনন্য
ভিটামিন এ, বি এবং সি সমৃদ্ধ শুষনি শাক শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউন
সিস্টেমকে শক্তিশালী করে। এটি নিয়মিত খেলে সাধারণ জ্বর, সর্দি ও কাশিতে আক্রান্ত
হওয়ার প্রবণতা অনেক কমে যায়। শরীরের কোষগুলোকে ভাইরাসের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে
এই শাকের ফাইটোকেমিক্যালসগুলো কার্যকর ভূমিকা পালন করে। সুস্থ ও দীর্ঘস্থায়ী
জীবনের জন্য শুষনি শাককে অবহেলা না করে নিয়মিত খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা
উচিত।



এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url