বাংলাদেশে কবে এবং কোথায় প্রথম চিকিৎসা সমাজকর্ম চালু হয়
বাংলাদেশে সমাজসেবার দীর্ঘ ঐতিহ্য থাকলেও বৈজ্ঞানিক ও পেশাদার সমাজকর্মের যাত্রা
শুরু হয়েছিল গত শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবার সাথে সামাজিক ও
মনস্তাত্ত্বিক বিষয়ের সমন্বয় ঘটিয়ে চিকিৎসা সমাজকর্ম (Medical Social Work)
বাংলাদেশে একটি অনন্য মাত্রা যোগ করেছে।
আজকের আর্টিকেলটি পরে আপনারা জানতে পারবেন বাংলাদেশে কবে এবং কোথায় প্রথম
চিকিৎসা সমাজকর্ম চালু হয়।
পেজ সূচিপত্র:বাংলাদেশে কবে এবং কোথায় প্রথম চিকিৎসা সমাজকর্ম চালু হয়
- চিকিৎসা সমাজকর্মের পটভূমি ও ধারণা
- বাংলাদেশে চিকিৎসা সমাজকর্মের আনুষ্ঠানিক যাত্রা
- প্রথম কেন্দ্র: ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
- জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার ভূমিকা
- হাসপাতাল সমাজসেবার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ
- সমাজকর্মীর ভূমিকা ও দায়িত্বসমূহ
- রোগী কল্যাণ তহবিলের গুরুত্ব ও অবদান
- চিকিৎসা সমাজকর্মের প্রতিবন্ধকতা ও চ্যালেঞ্জ
- বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
- উপসংহার ও শেষ কথা
১. চিকিৎসা সমাজকর্মের পটভূমি ও ধারণা
চিকিৎসা সমাজকর্ম হলো সমাজকর্মের একটি বিশেষ শাখা যা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে
রোগীদের মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক সহায়তা প্রদান করে। বাংলাদেশে এই সেবার যাত্রা
শুরু হয়েছিল মূলত রোগীদের কেবল শারীরিক চিকিৎসার বাইরে তাদের মানসিক ও আর্থিক
সমস্যার সমাধানের লক্ষ্য নিয়ে। আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় শুধুমাত্র ওষুধ বা
অস্ত্রোপচার যথেষ্ট নয়, বরং রোগীর সামাজিক পরিবেশের উন্নয়নও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
এই উপলব্ধি থেকেই বাংলাদেশে পেশাদার সমাজকর্মের এই প্রয়োগিক শাখাটির প্রয়োজনীয়তা
দেখা দেয় বিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে স্বাস্থ্য খাতের
সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে এই পদ্ধতিটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা জাগিয়ে
তুলেছিল। মূলত একটি অবহেলিত জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে এটি কাজ শুরু
করে। এটি চিকিৎসক, রোগী এবং রোগীর পরিবারের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে
থাকে। সে সময় থেকেই এটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভের অপেক্ষায় ছিল যা পরবর্তীতে
বাস্তবায়িত হয়। বর্তমানে এটি বাংলাদেশের প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে একটি অপরিহার্য
বিভাগ হিসেবে স্বীকৃত ও সমাদৃত।
আরো পড়ুন:অতিরিক্ত সাদা স্রাব হলে করনীয় কি
২. বাংলাদেশে চিকিৎসা সমাজকর্মের আনুষ্ঠানিক যাত্রা
বাংলাদেশে চিকিৎসা সমাজকর্মের সূচনা হয় ১৯৫৩ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে যা
ছিল একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। জাতিসংঘ এবং তৎকালীন সরকারের যৌথ উদ্যোগে এই
বিশেষায়িত সমাজসেবা কার্যক্রমের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল প্রথমবার। এটি শুরু
হওয়ার মূল কারণ ছিল দরিদ্র রোগীদের হাসপাতালের পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে
সাহায্য করা। ১৯৫৩ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরীক্ষামূলকভাবে এই
কার্যক্রমটি প্রথম চালু করা হয় আনুষ্ঠানিকভাবে। এটি ছিল পুরো দক্ষিণ এশিয়ায়
পেশাদার সমাজকর্মের অন্যতম প্রথম প্রয়োগিক দৃষ্টান্ত হিসেবে গণ্য হওয়া ঘটনা।
তৎকালীন সমাজকল্যাণ পরিষদ এবং জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা এই প্রকল্পের রূপরেখা প্রণয়নে
প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন। শুরুর দিকে এটি ছিল একটি সীমিত পরিসরের প্রকল্প যা
পরবর্তীতে ব্যাপক জনপ্রিয়তা ও সাফল্য পায়। এই সূচনার মাধ্যমেই বাংলাদেশে সমাজকর্ম
বিষয়টি একটি নিছক দানশীলতা থেকে পেশাদারিত্বে রূপান্তর লাভ করে। এর ফলে
হাসপাতালের প্রশাসনিক কাঠামোতে সমাজকর্মীদের একটি স্থায়ী জায়গা তৈরি হওয়া নিশ্চিত
হয়ে যায়।
৩. প্রথম কেন্দ্র: ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ছিল বাংলাদেশের চিকিৎসা সমাজকর্মের সূতিকাগার এবং
প্রথম কার্যকরী কর্মক্ষেত্র। ১৯৫৩ সালে যখন এটি চালু হয়, তখন হাসপাতালের সীমিত
সম্পদের মধ্যে সমাজকর্মীরা কাজ শুরু করেছিলেন। এই কেন্দ্রের মূল লক্ষ্য ছিল অসহায়
ও নিঃস্ব রোগীদের বিনামূল্যে ওষুধ এবং পথ্যের ব্যবস্থা করা। ঢাকা মেডিকেল কলেজ
হাসপাতালের এই ইউনিটটি রোগীদের সামাজিক ইতিহাস সংগ্রহ করার কাজ শুরু করে।
চিকিৎসকরা দ্রুত বুঝতে পারেন যে রোগীর রোগমুক্তিতে সমাজকর্মীদের সংগৃহীত তথ্য
অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখছে। এই কেন্দ্রটি তখন থেকেই 'হাসপাতাল সমাজসেবা' নামে
পরিচিতি পেতে শুরু করে যা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এখানে সমাজকর্মীরা রোগীদের
মানসিক সাহস জোগানোর পাশাপাশি তাদের পুনর্বাসনের চিন্তাও শুরু করেছিলেন প্রথম
দিকেই। ঢাকা মেডিকেলের এই সফল মডেলটি পরবর্তীতে সারা দেশের অন্যান্য হাসপাতালে
ছড়িয়ে দেওয়ার অনুপ্রেরণা জোগায়। এটি ছিল মূলত একটি নতুন অধ্যায় যা দেশের
স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে আরও মানবিক করে তুলেছিল।
৪. জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার ভূমিকা
বাংলাদেশে চিকিৎসা সমাজকর্ম প্রবর্তনে জাতিসংঘের কারিগরি সহায়তা মিশন অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ ও বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে। ১৯৫২ সালে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ দল এ দেশে
এসে সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রমের প্রয়োজনীয়তা নিরূপণ করেন। তাদের সুপারিশের
ভিত্তিতেই ১৯৫৩ সালে চিকিৎসা সমাজকর্ম বা হাসপাতাল সমাজসেবা কার্যক্রম শুরু করা
সম্ভব হয়। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা স্থানীয় সমাজকর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা
করেছিলেন যাতে তারা পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করতে পারেন। মূলত পশ্চিমা বিশ্বের
চিকিৎসা সমাজকর্মের ধারণাটি এ দেশের প্রেক্ষাপটে খাপ খাইয়ে নিতে তারা সাহায্য
করেন। বিদেশি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোতে সমাজকর্মীদের জন্য
আলাদা বসার জায়গা বরাদ্দ করা হয়েছিল তখন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিদেশি অনুদান ও
কারিগরি দক্ষতা সরাসরি বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে প্রবেশ করতে থাকে। এটি ছিল একটি
বৈশ্বিক জ্ঞান বিনিময়ের ফসল যা স্থানীয় জনগণের কল্যাণে নিবেদিত করা হয়েছিল।
জাতিসংঘের এই সহযোগিতা না থাকলে বাংলাদেশে এই আধুনিক সেবাটি চালু হতে আরও অনেক
সময় লাগত।
৫. হাসপাতাল সমাজসেবার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ
১৯৫৩ সালে শুরু হওয়া এই কার্যক্রমটি পরবর্তীতে 'হাসপাতাল সমাজসেবা' হিসেবে
সরকারিভাবে স্থায়ী রূপ লাভ করে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে এই কার্যক্রমটি
বর্তমানে বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে বিস্তৃত। শুরুর দিকে এটি
ছিল একটি প্রকল্পভিত্তিক কাজ, কিন্তু এর গুরুত্ব বিবেচনায় এটি রাজস্ব বাজেটে
অন্তর্ভুক্ত হয়। প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাওয়ার পর সমাজকর্মীদের পদমর্যাদা ও কাজের
পরিধি সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এখন এই বিভাগটি অসহায় রোগীদের
রক্তদান, মৃতদেহ সৎকার এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহের কাজ করে। সরকারি অর্থায়নের
পাশাপাশি স্থানীয় দানশীল ব্যক্তিদের সহযোগিতায় একটি 'রোগী কল্যাণ তহবিল' গঠন করা
হয়। এই তহবিলের মাধ্যমে দরিদ্র রোগীদের জটিল অস্ত্রোপচার ও দামি ওষুধ কেনায়
সহায়তা প্রদান করা হয়। এটি এখন একটি সুসংগঠিত প্রশাসনিক ইউনিট যা হাসপাতালের
অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে প্রতিদিন সেবা দিচ্ছে। প্রতিষ্ঠান হিসেবে এটি এখন হাজার
হাজার মানুষের শেষ ভরসার স্থল হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
আরো পড়ুন:অবিবাহিত মেয়েদের সাদা স্রাব কেন হয়
৬. সমাজকর্মীর ভূমিকা ও দায়িত্বসমূহ
চিকিৎসা সমাজকর্মীরা হাসপাতালে চিকিৎসকের পাশাপাশি এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও
সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকেন। তাদের প্রথম কাজ হলো রোগীর সামাজিক ও পারিবারিক
প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে চিকিৎসার পথ সহজ করা। তারা রোগীর মানসিক উদ্বেগ দূর করে
তাদের মধ্যে ইতিবাচক চিন্তাভাবনা ও আত্মবিশ্বাস তৈরি করতে সাহায্য করেন। যেসব
রোগীর কোনো আত্মীয়স্বজন নেই, তাদের দেখাশোনার সম্পূর্ণ দায়িত্ব অনেক সময়
সমাজকর্মীরাই গ্রহণ করেন। এছাড়া জটিল রোগের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার মানসিক
প্রস্তুতি নিতে তারা রোগীকে কাউন্সিলিং প্রদান করে থাকেন। হাসপাতালের নিয়মকানুন
বুঝতে অক্ষম রোগীদের তারা সার্বক্ষণিক পথপ্রদর্শক হিসেবে সব রকম তথ্য দিয়ে সহায়তা
করেন। তারা হাসপাতালের সমাজসেবা কার্যালয় থেকে বিনামূল্যে ওষুধ ও আনুষঙ্গিক
চিকিৎসা সামগ্রী বিতরণের কাজ করেন। এছাড়া রোগীর সুস্থতার পর তাকে পরিবারে ফিরিয়ে
দেওয়া বা পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও তারা করে থাকেন। মূলত একজন সমাজকর্মী রোগীর
চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় একটি মানবিক সেতুবন্ধন হিসেবে সবসময় কাজ করে যান।
৭. রোগী কল্যাণ তহবিলের গুরুত্ব ও অবদান
চিকিৎসা সমাজকর্মের প্রাণকেন্দ্র হলো 'রোগী কল্যাণ তহবিল' যা রোগীদের সরাসরি
আর্থিক সহায়তা প্রদান করে থাকে। ১৯৫৩ সাল থেকে শুরু হওয়া এই ধারণাটি বর্তমানে
প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে কার্যকরভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এই তহবিল মূলত সরকারি
অনুদান এবং সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত দানের সমন্বয়ে গঠিত হয়। এখান
থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে দরিদ্র রোগীদের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ওষুধের খরচ
মেটানো হয়ে থাকে। বিশেষ করে ক্যানসার বা কিডনি রোগের মতো ব্যয়বহুল চিকিৎসার
ক্ষেত্রে এই তহবিল বড় আশীর্বাদ। এই তহবিলের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে একটি শক্তিশালী
পরিচালনা কমিটি সবসময় কাজ করে থাকে। অনেক সময় রোগীকে সুস্থ করার পর বাড়িতে যাওয়ার
ভাড়াও এই তহবিল থেকে প্রদান করা হয়। এটি বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে
স্বাস্থ্যসেবার বৈষম্য কমাতে এক অনন্য ভূমিকা পালন করে আসছে। রোগী কল্যাণ তহবিলের
মাধ্যমে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের অধিকার নিশ্চিত করা অনেক সহজ হয়ে গেছে।
৮. চিকিৎসা সমাজকর্মের প্রতিবন্ধকতা ও চ্যালেঞ্জ
সাফল্য থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশে চিকিৎসা সমাজকর্মের পথে বেশ কিছু কঠিন চ্যালেঞ্জ
ও প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। প্রথমত, বিপুল জনসংখ্যার বিপরীতে সমাজকর্মীর সংখ্যা
প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম বা অপর্যাপ্ত বলা যায়।
অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ এবং
এমনকি কিছু স্বাস্থ্যকর্মীও এই বিভাগের কাজ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখেন না।
পর্যাপ্ত বাজেটের অভাব মাঝেমধ্যে দরিদ্র রোগীদের শতভাগ সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে বড়
বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া দক্ষ ও উচ্চতর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সমাজকর্মীর অভাবও এই
সেক্টরে একটি বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত। প্রশাসনিক জটিলতা এবং আমলাতান্ত্রিক
দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেক সময় জরুরি সেবা প্রদানে দেরি হয়ে থাকে। গ্রামীণ অঞ্চলের
হাসপাতালগুলোতে এই সেবার মান শহরের তুলনায় কিছুটা পিছিয়ে আছে বলে মনে করা হয়।
সামাজিক কুসংস্কার এবং সচেতনতার অভাবও অনেক সময় সমাজকর্মীদের কাজে ব্যাঘাত ঘটিয়ে
থাকে প্রতিনিয়ত। তবে এই চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে ওঠার জন্য বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি
ও বেসরকারি উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।
আরো পড়ুন:চুল পাকা বন্ধের ঔষধ হোমিওপ্যাথি
৯. বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
বর্তমানে বাংলাদেশে চিকিৎসা সমাজকর্ম কেবল হাসপাতালের চার দেওয়ালে সীমাবদ্ধ নেই
বরং এটি বহুদূর বিস্তৃত। আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় এখন অনলাইন ডাটাবেজের মাধ্যমে
রোগীদের তথ্য সংরক্ষণ ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই পেশায় আরও বিশেষজ্ঞ
সমাজকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে অনেকদিন ধরে।
প্যালিয়েটিভ কেয়ার বা মুমূর্ষু রোগীদের সেবায় সমাজকর্মীদের ভূমিকা দিন দিন আরও
বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এছাড়া মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে
সমাজকর্মীরা এখন কমিউনিটি পর্যায়ে গিয়েও বিভিন্ন কাজ করছেন। আগামীতে প্রতিটি
বেসরকারি হাসপাতালেও এই সেবা বাধ্যতামূলক করার দাবি উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।
টেলি-কাউন্সিলিং এর মাধ্যমে দূরবর্তী রোগীদের সহায়তা দেওয়ার নতুন সম্ভাবনাও এখন
উঁকি দিচ্ছে এই খাতে। শিক্ষা ক্ষেত্রেও সমাজকর্ম বিষয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এই
ক্ষেত্রটি একটি চমৎকার ক্যারিয়ার হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। সঠিক পরিকল্পনা ও
পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এটি দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্য সূচক উন্নয়নে বিশাল ভূমিকা রাখবে।
১০. উপসংহার ও শেষ কথা
পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশে ১৯৫৩ সালে শুরু হওয়া চিকিৎসা সমাজকর্ম আজ এক বিশাল
মহীরুহে পরিণত হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে শুরু হওয়া সেই ক্ষুদ্র
যাত্রা আজ দেশের আনাচে-কানাচে বিস্তৃত। এটি কেবল চিকিৎসা নয়, বরং অসহায় মানুষের
অধিকার রক্ষার একটি শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। সমাজকর্মীদের নিরলস পরিশ্রম
আর ত্যাগের মাধ্যমেই এই সেবাটি টিকে আছে এবং উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকারের
পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদেরও এই মহৎ কার্যক্রমে এগিয়ে আসা সময়ের দাবি বলে মনে হয়।
এটি দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার একটি মানবিক প্রতিচ্ছবি যা বিশ্ব দরবারে আমাদের
গর্বিত করে তোলে। সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা এবং উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই সেবাকে
আরও আধুনিক ও বেগবান করা সম্ভব। আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ ও সুন্দর সমাজ
গড়তে চিকিৎসা সমাজকর্মের কোনো বিকল্প নেই। এই সেবার ধারা অব্যাহত থাকলে
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাত ভবিষ্যতে আরও অনেক উচ্চতায় পৌঁছাবে।



এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url