মোবাইল দিয়ে কি কন্টেন রাইটিং করে আয় করা যায়

মোবাইল ফোন দিয়ে কন্টেন্ট রাইটিং করে আয় করার বিষয়টি বর্তমানে অনেকের কাছেই একটি স্বপ্ন পূরণের মতো। আগে ধারণা করা হতো যে লেখালেখির জন্য ল্যাপটপ বা কম্পিউটার বাধ্যতামূলক, কিন্তু প্রযুক্তির উৎকর্ষে এখন আপনার হাতের স্মার্টফোনটিই একটি শক্তিশালী রাইটিং টুল।

​নিচে মোবাইল দিয়ে কন্টেন্ট রাইটিংয়ের মাধ্যমে আয় করার বিস্তারিত গাইডলাইন দেওয়া হলো:

 পেজ সূচিপত্র:মোবাইল দিয়ে কি কন্টেন রাইটিং করে আয় করা যায়

​১. স্মার্টফোনে কন্টেন্ট রাইটিংয়ের সম্ভাবনা ও সূচনা

​বর্তমানে গ্লোবাল ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটে কন্টেন্ট রাইটিং অন্যতম চাহিদাসম্পন্ন পেশা। আপনি যদি স্মার্টফোনে দ্রুত টাইপ করতে পারেন এবং আপনার ভাষায় দক্ষতা থাকে, তবে আপনি অনায়াসেই এই যাত্রায় সফল হতে পারেন। স্মার্টফোনে কাজ করার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো পোর্টেবিলিটি। আপনি বাসে বসে, পার্কে কিংবা অবসরে যেকোনো জায়গায় বসে আপনার কন্টেন্ট লিখে ফেলতে পারেন। শুরুতে বড় কোনো বিনিয়োগের প্রয়োজন নেই; শুধু একটি ভালো ইন্টারনেট কানেকশন এবং ইচ্ছাশক্তি থাকলেই আপনি আপনার ক্যারিয়ার শুরু করতে পারেন।

​২. প্রয়োজনীয় অ্যাপস এবং টুলস সেটআপ

​মোবাইলে পেশাদারভাবে লেখার জন্য আপনাকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপ ব্যবহার করতে হবে।
​Google Docs: এটি রাইটারদের জন্য সেরা অ্যাপ কারণ এতে অটো-সেভ অপশন থাকে এবং যেকোনো ডিভাইস থেকে অ্যাক্সেস করা যায়।
​Microsoft Word: ফরম্যাটিংয়ের জন্য এটি অত্যন্ত কার্যকর।
​Grammarly: আপনার ইংরেজি লেখার গ্রামার এবং স্পেলিং চেক করার জন্য এটি অপরিহার্য।
​Evernote বা Keep Notes: তাৎক্ষণিক আইডিয়া নোট করে রাখার জন্য এই অ্যাপগুলো দারুণ কাজ করে। এই টুলগুলো আপনার মোবাইলকে একটি মিনি অফিসে রূপান্তরিত করবে।

​৩. ভাষার দক্ষতা এবং লেখার মান উন্নয়ন

​কন্টেন্ট রাইটিং মানে শুধু শব্দ সাজানো নয়, বরং পাঠকের কাছে তথ্য সঠিকভাবে পৌঁছানো। আপনি যদি বাংলা বা ইংরেজি যে ভাষাতেই লিখুন না কেন, ব্যাকরণগত শুদ্ধতা বজায় রাখা জরুরি। মোবাইলে লেখার সময় অনেক সময় টাইপিং ভুল (Typo) হতে পারে, তাই লেখা শেষে অন্তত দুবার প্রুফরিডিং করা উচিত। এছাড়াও আপনার শব্দভাণ্ডার (Vocabulary) বাড়ানোর জন্য নিয়মিত বিভিন্ন ব্লগ এবং আর্টিকেল পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। মনে রাখবেন, একজন ভালো লেখক হওয়ার প্রথম শর্ত হলো একজন ভালো পাঠক হওয়া।

​৪. বিভিন্ন ধরণের কন্টেন্ট রাইটিং এবং আপনার নিস (Niche) নির্বাচন

​আয় করার জন্য আপনাকে নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হতে হবে, যাকে ফ্রিল্যান্সিংয়ের ভাষায় 'Niche' বলা হয়।
​Blog Writing: বিভিন্ন ওয়েবসাইট বা ব্লগের জন্য তথ্যমূলক লেখা।
​Copywriting: কোনো পণ্য বিক্রির উদ্দেশ্যে আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন লেখা।
​Social Media Content: ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামের জন্য ছোট কিন্তু কার্যকর পোস্ট তৈরি করা।
​Product Description: ই-কমার্স সাইটের পণ্যের বিবরণ লেখা।
আপনার যে বিষয়ে জ্ঞান বা আগ্রহ বেশি (যেমন: টেকনোলজি, লাইফস্টাইল, হেলথ বা ট্রাভেল), সেই বিষয়টি নির্বাচন করলে আপনার লেখার মান ভালো হবে।
​৫. মোবাইল রাইটারদের জন্য কিবোর্ড এবং টাইপিং কৌশল
​মোবাইলে দ্রুত এবং নির্ভুলভাবে টাইপিং করার জন্য একটি ভালো কিবোর্ড অ্যাপ বাছাই করা জরুরি।
​Gboard: গুগল কিবোর্ডে ভয়েস টাইপিং ফিচার আছে, যা ব্যবহার করে আপনি কথা বলে দ্রুত ড্রাফট তৈরি করতে পারেন।
​Ridmik Keyboard: বাংলা টাইপিংয়ের জন্য এটি সেরা।
দীর্ঘসময় মোবাইলে টাইপ করার ফলে আঙ্গুলে ব্যথা হতে পারে, তাই আপনি চাইলে একটি সস্তা Bluetooth Keyboard কিনে মোবাইলের সাথে কানেক্ট করে নিতে পারেন। এতে আপনার টাইপিং স্পিড ল্যাপটপের মতোই দ্রুত হবে।

​৬. পোর্টফোলিও তৈরি ও নিজের ব্র্যান্ডিং

​কাজ পাওয়ার আগে ক্লায়েন্ট আপনার পূর্বের কাজের নমুনা দেখতে চাইবে। আপনার যদি কোনো কাজের অভিজ্ঞতা না থাকে, তবে ফ্রিতে কিছু আর্টিকেল লিখে একটি পোর্টফোলিও তৈরি করুন। আপনি Medium.com বা Blogger.com-এ ফ্রিতে নিজের ব্লগ খুলে সেখানে লেখা পাবলিশ করতে পারেন। এই লিংকগুলো আপনার স্যাম্পল হিসেবে ক্লায়েন্টকে দেখাতে পারবেন। এছাড়া লিঙ্কডইন (LinkedIn) প্রোফাইলটি পেশাদারভাবে সাজান, যাতে ক্লায়েন্টরা আপনাকে খুঁজে পায়।

​৭. ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে কাজের সুযোগ

​মোবাইল দিয়ে আপনি বিশ্বের বড় বড় মার্কেটপ্লেসে কাজ করতে পারেন।
​Upwork & Fiverr: এখানে কন্টেন্ট রাইটিংয়ের প্রচুর কাজ পাওয়া যায়।
​Freelancer.com: এখানে বিভিন্ন রাইটিং কনটেস্টে অংশ নিতে পারেন।
তবে শুরুতে বড় প্রজেক্ট না খুঁজে ছোট ছোট কাজ (যেমন: ৫০০ শব্দের আর্টিকেল) দিয়ে শুরু করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। নিয়মিত বিড করা এবং ক্লায়েন্টের সাথে সঠিক সময়ে যোগাযোগ বজায় রাখা সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।

​৮. সোশ্যাল মিডিয়া এবং লোকাল ক্লায়েন্ট থেকে আয়

​শুধু ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটপ্লেস নয়, ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপ (যেমন: Content Writers Bangladesh) থেকে আপনি দেশি ক্লায়েন্টদের কাজ পেতে পারেন। অনেক ই-কমার্স পেজ বা নিউজ পোর্টাল নিয়মিত রাইটার নিয়োগ দেয়। আপনার পোর্টফোলিও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করলে সেখান থেকেও সরাসরি কাজের অফার আসতে পারে। লোকাল মার্কেটে কাজ করলে পেমেন্ট নিয়ে ঝামেলা কম হয় এবং বিকাশ বা নগদের মাধ্যমে দ্রুত টাকা পাওয়া যায়।

​৯. নিজের ব্লগ বা ওয়েবসাইট থেকে দীর্ঘমেয়াদী আয়

​আপনি যদি অন্যের অধীনে কাজ করতে না চান, তবে নিজের একটি ব্লগ সাইট খুলতে পারেন। গুগলের AdSense বা Affiliate Marketing-এর মাধ্যমে আপনার ব্লগ থেকে প্যাসিভ ইনকাম করা সম্ভব। যদিও এটি সময়সাপেক্ষ, কিন্তু একবার ট্রাফিক বা ভিজিটর আসা শুরু করলে এটি আয়ের একটি স্থায়ী উৎস হয়ে দাঁড়াবে। মোবাইলে ওয়ার্ডপ্রেস (WordPress) অ্যাপ ব্যবহার করে আপনি আপনার সাইট পরিচালনা করতে পারবেন।

​১০. চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা এবং ধৈর্য ধারণ

​মোবাইলে কন্টেন্ট রাইটিং করার কিছু সীমাবদ্ধতা আছে, যেমন স্ক্রিন ছোট হওয়া বা মাল্টিটাস্কিং করতে অসুবিধা। অনেক সময় বড় ফাইল ফরম্যাটিং করতে সমস্যা হতে পারে। তবে ধৈর্য এবং সঠিক কৌশলের মাধ্যমে এই বাধাগুলো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। ফ্রিল্যান্সিংয়ে শুরুতেই অনেক টাকা আয় হবে না, এখানে টিকে থাকার জন্য প্রয়োজন প্রচণ্ড ধৈর্য এবং শেখার মানসিকতা। প্রতিদিন অন্তত ১-২ ঘণ্টা লেখার প্র্যাকটিস করুন এবং নিজেকে আপডেট রাখুন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url