সাজেক ভ্যালি রিসোর্ট এর মূল্য তালিকা বিস্তারিত গাইডলাইন
সাজেক ভ্যালী বা 'মেঘের রাজ্য' বাংলাদেশের ভ্রমণপিপাসুদের কাছে এক স্বপ্নের গন্তব্য। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৮০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই উপত্যকাটি রাঙ্গামাটি জেলায় অবস্থিত হলেও যাতায়াতের সুবিধার জন্য মানুষ খাগড়াছড়ি হয়েই সেখানে যায়।
২০২৬ সালে সাজেক ভ্রমণের পূর্ণাঙ্গ খরচ, রিসোর্ট তালিকা এবং যাতায়াত পরিকল্পনা নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
১. সাজেক যাওয়ার উপায় (যাতায়াত ব্যবস্থা
ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ি
* বাস: ঢাকা (গাবতলী, সায়েদাবাদ বা কলাবাগান) থেকে শান্তি পরিবহন, হানিফ, শ্যামলী, এস আলম বা এনা পরিবহনের বাসে খাগড়াছড়ি যেতে পারেন।
* খরচ: নন-এসি বাস ভাড়া ৮০০-৯০০ টাকা। এসি বাস ১,২০০-১,৬০০ টাকা (পরিবহন ভেদে)।
* সময়: রাত ১০টা বা ১১টার বাসে উঠলে ভোরে খাগড়াছড়ি পৌঁছানো যায়।
খাগড়াছড়ি থেকে সাজেক (চাঁদের গাড়ি)
সাজেক যাওয়ার আসল রোমাঞ্চ শুরু হয় এখান থেকেই। খাগড়াছড়ি শহর থেকে জিপ বা 'চাঁদের গাড়ি' রিজার্ভ করতে হয়।
* গাড়ি ভাড়া: ২ দিন ১ রাতের জন্য আসা-যাওয়া এবং সেখানে ঘোরার জন্য চাঁদের গাড়ি ভাড়া প্রায় ৮,০০০-১০,০০০ টাকা। এক গাড়িতে ১২-১৩ জন বসা যায়।
* ছোট গ্রুপ: যদি মানুষ কম হয়, তবে খাগড়াছড়ি জিপ স্ট্যান্ডে গিয়ে অন্য গ্রুপের সাথে শেয়ারে যেতে পারেন। সেক্ষেত্রে মাথাপিছু ১,০০০-১,২০০ টাকা খরচ হতে পারে।
২. রিসোর্ট ও কটেজের মূল্য তালিকা
প্রিমিয়াম রিসোর্ট (৫,০০০ - ১৫,০০০ টাকা)
* সাজেক রিসোর্ট: এটি সেনাবাহিনী পরিচালিত। ভাড়া ১০,০০০ থেকে ১৫,০০০ টাকা পর্যন্ত। এটি সবচেয়ে নিরাপদ এবং সুন্দর ভিউ সম্পন্ন।
* রুংরাং রিসোর্ট: এটি বেশ জনপ্রিয় এবং ডেকোরেশন খুব সুন্দর। ভাড়া ৫,০০০-৮,০০০ টাকা।
* মেঘপুঞ্জি রিসোর্ট: মেঘ দেখার জন্য সেরা জায়গা। ভাড়া ৪,০০০-৭,০০০ টাকা।
মাঝারি মানের রিসোর্ট (৩,০০০ - ৫,০০০ টাকা)
* মেঘ মাচাং: বাঁশ এবং কাঠের তৈরি সুন্দর রিসোর্ট। ভাড়া ৩,৫০০-৪,৫০০ টাকা।
* জুমঘর ইকো রিসোর্ট: নিরিবিলি পরিবেশের জন্য পরিচিত। ভাড়া ৩,০০০-৪,০০০ টাকা।
* লুসাই কটেজ: আদিবাসী ঘরানার সাজসজ্জা। ভাড়া ৩,৫০০-৪,৫০০ টাকা।
বাজেট কটেজ (১,৫০০ - ২,৫০০ টাকা)
* হিল ভিউ রিসোর্ট: কম বাজেটে থাকার জন্য ভালো। ভাড়া ২,০০০-২,৫০০ টাকা।
* আদিবাসী কটেজ: রুইলুই পাড়ায় অনেক আদিবাসী কটেজ আছে যেখানে ১,০০০-১,৫০০ টাকায় সাধারণ রুম পাওয়া যায়।
> টিপস: ছুটির দিনে (শুক্রবার-শনিবার) যেতে চাইলে কমপক্ষে ১ মাস আগে বুকিং দেওয়া জরুরি।
৩. খাওয়ার খরচ
সাজেকে খাওয়ার খরচ সমতলের চেয়ে কিছুটা বেশি, কারণ সব খাবার নিচ থেকে ট্রাকে করে নিয়ে যেতে হয়।
* প্যাকেজ সিস্টেম: প্রায় সব রেস্টুরেন্টেই ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ ও ডিনারের প্যাকেজ থাকে।
* সকালের নাস্তা: ১০০-১৫০ টাকা (পরোটা, ডিম, সবজি/খিচুড়ি)।
* দুপুরের খাবার: ২৫০-৩৫০ টাকা (ভাত, ভর্তা, ডাল, মুরগি/বাঁশ মুরগি)।
* রাতের খাবার (বারবিকিউ): ৩৫০-৫০০ টাকা (চিকেন বারবিকিউ, পরোটা, সালাদ ও ড্রিংকস)।
* বাঁশ মুরগি (Bamboo Chicken): সাজেকের বিশেষ খাবার। একটি আস্ত বাঁশ মুরগি ৫০০-৭০০ টাকা নিতে পারে, যা ২-৩ জন শেয়ার করে খাওয়া যায়।
৪. সাজেক ভ্রমণের ৩ দিনের একটি খসড়া বাজেট (মাথাপিছু)
যদি আপনারা ১০-১২ জনের একটি গ্রুপ হয়ে ৩ দিন ২ রাতের জন্য ঢাকা থেকে সাজেক যান, তবে সম্ভাব্য বাজেট হবে নিম্নরূপ:
| খাতের নাম | আনুমানিক খরচ (টাকা) |
|---|---|
| ঢাকা-খাগড়াছড়ি-ঢাকা বাস ভাড়া (নন-এসি) | ১,৮০০ |
| চাঁদের গাড়ি ভাড়া (শেয়ারিং ভিত্তিতে) | ১,০০০ |
| ২ রাত রিসোর্ট ভাড়া (শেয়ারিং রুমে) | ২,৫০০ - ৩,০০০ |
| ৩ দিনের খাবার (৯ বেলা) | ২,৫০০ - ৩,০০০ |
| এন্ট্রি ফি ও অন্যান্য খরচ | ৫০০ |
* প্যাকেজ সিস্টেম: প্রায় সব রেস্টুরেন্টেই ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ ও ডিনারের প্যাকেজ থাকে।
* সকালের নাস্তা: ১০০-১৫০ টাকা (পরোটা, ডিম, সবজি/খিচুড়ি)।
* দুপুরের খাবার: ২৫০-৩৫০ টাকা (ভাত, ভর্তা, ডাল, মুরগি/বাঁশ মুরগি)।
* রাতের খাবার (বারবিকিউ): ৩৫০-৫০০ টাকা (চিকেন বারবিকিউ, পরোটা, সালাদ ও ড্রিংকস)।
* বাঁশ মুরগি (Bamboo Chicken): সাজেকের বিশেষ খাবার। একটি আস্ত বাঁশ মুরগি ৫০০-৭০০ টাকা নিতে পারে, যা ২-৩ জন শেয়ার করে খাওয়া যায়।
৪. সাজেক ভ্রমণের ৩ দিনের একটি খসড়া বাজেট (মাথাপিছু)
যদি আপনারা ১০-১২ জনের একটি গ্রুপ হয়ে ৩ দিন ২ রাতের জন্য ঢাকা থেকে সাজেক যান, তবে সম্ভাব্য বাজেট হবে নিম্নরূপ:
| খাতের নাম | আনুমানিক খরচ (টাকা) |
|---|---|
| ঢাকা-খাগড়াছড়ি-ঢাকা বাস ভাড়া (নন-এসি) | ১,৮০০ |
| চাঁদের গাড়ি ভাড়া (শেয়ারিং ভিত্তিতে) | ১,০০০ |
| ২ রাত রিসোর্ট ভাড়া (শেয়ারিং রুমে) | ২,৫০০ - ৩,০০০ |
| ৩ দিনের খাবার (৯ বেলা) | ২,৫০০ - ৩,০০০ |
| এন্ট্রি ফি ও অন্যান্য খরচ | ৫০০ |
| মোট আনুমানিক বাজেট | ৮,০০০ - ১০,০০০ টাকা |
জনপ্রিয় রিসোর্টের মূল্য তালিকা (২০২৬ অনুমানিক)
নিচে কিছু জনপ্রিয় রিসোর্টের বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হলো। ভাড়া অফ-সিজন/পিক সিজন অনুযায়ী।
1. **সাজেক রিসোর্ট (আর্মি পরিচালিত)**
- লোকেশন: সাজেকের প্রাণকেন্দ্রে।
- সুবিধা: নিরাপদ, পরিষ্কার, খাবারের ব্যবস্থা, ডিসকাউন্ট সেনা/সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য।
- ভাড়া: নন-এসি ১০,০০০-১৫,০০০ টাকা; এসি রুম আরও বেশি।
- যোগাযোগ: ০১৮৫৯-০২৫৬৯৪।
- টিপস: আগে থেকে বুক করুন, ছুটিতে ফুল থাকে।
2. **রুংরাং রিসোর্ট (Rungrang Resort)**
- লোকেশন: আর্মি রিসোর্টের উল্টো পাশে, প্রিমিয়াম ভিউ।
- সুবিধা: কাঠের ইন্টেরিয়র, ৩৬০ ডিগ্রী বারান্দা, সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত ভিউ, আধুনিক ওয়াশরুম।
- ভাড়া: কাপল রুম ৩,০০০-৪,৫০০ টাকা; ডাবল/ফ্যামিলি ৪,০০০-৫,৫০০ টাকা।
- যোগাযোগ: ফেসবুক পেজ বা ০১৮৪১-৮৬২৬০০।
- রিভিউ: সাজেকের সেরা রিসোর্টগুলোর একটি, মেঘ দেখার জন্য আদর্শ।
3. **মেঘপুঞ্জি রিসোর্ট (Meghpunji Resort)**
- লোকেশন: রুইলুই পাড়ায়, ইনফিনিটি ভিউ।
- সুবিধা: ইকো কটেজ (তারাশা, পূর্বাশা ইত্যাদি), গ্লাস ওয়াল, ক্লাউড টেরেস, ৪ জন পর্যন্ত থাকা যায়।
- ভাড়া: ৪,০০০-৬,০০০ টাকা প্রতি কটেজ।
- যোগাযোগ: ০১৮১৫-৭৬১০৬৫, ওয়েবসাইট: meghpunji.com।
- টিপস: অনেক আগে বুক করুন, খুব জনপ্রিয়।
4. **মেঘপল্লি রিসোর্ট (Meghpolli Resort)**
- লোকেশন: শান্ত এলাকায়, মিজোরাম ভিউ।
- সুবিধা: ইকো মাড হাউস, ইনফিনিটি পুল, প্রাইভেট পুল কটেজ।
- ভাড়া: ৫,০০০-৮,০০০ টাকা (পুল সহ আরও বেশি)।
- যোগাযোগ: meghpolli.com।
- রিভিউ: লাক্সারি অপশন, কাপল/ফ্যামিলির জন্য আদর্শ।
5. **রুন্ময় রিসোর্ট (Runmoy Resort)**
- লোকেশন: ভালো ভিউ।
- সুবিধা: ৫টি রুম, অতিরিক্ত বেড।
- ভাড়া: গ্রাউন্ড ফ্লোর ৪,৫০০ টাকা; আপার ৫,০০০ টাকা।
- যোগাযোগ: ০১৮৬৫-৪৭৬৮৮।
6. **মেঘ মাচাং (Megh Machang)**
- লোকেশন: সেরা ভিউ।
- সুবিধা: ৫টি কটেজ, খাবার ব্যবস্থা।
- ভাড়া: ২,৫০০-৩,৫০০ টাকা।
- যোগাযোগ: ০১৮২২-১৬৮৮৭৭।
7. **জুমঘর ইকো রিসোর্ট**
- সুবিধা: আদিবাসী স্টাইল কটেজ।
- ভাড়া: ২,০০০-৩,৫০০ টাকা।
- যোগাযোগ: ০১৮৮৪-২০৮০৬০।
8. **আলো রিসোর্ট বা নিরিবিলি ইকো রিসোর্ট**
- বাজেট অপশন।
- ভাড়া: ২,০০০-৩,৫০০ টাকা।
অন্যান্য: মেঘ মাচাং, লুসাই কটেজ (কিছু ক্ষতিগ্রস্ত), ডি'মোর সাজেক, গসপেল রিসোর্ট ইত্যাদি।
গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য ও সতর্কতা
* নেটওয়ার্ক: সাজেকে রবি, এয়ারটেল ও টেলিটক ভালো চলে। গ্রামীণফোন বা বাংলালিংক নেটওয়ার্ক প্রায় থাকেই না।
* বিদ্যুৎ: সাজেকে মেইন গ্রিডের বিদ্যুৎ নেই। সব রিসোর্ট সোলার বা জেনারেটরের ওপর নির্ভরশীল। পাওয়ার ব্যাংক সাথে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
* এসকর্ট টাইম: বাঘাইহাট আর্মি ক্যাম্প থেকে সাজেক যাওয়ার জন্য দিনে দুইবার এসকর্ট দেওয়া হয় (সকাল ১০:৩০ এবং দুপুর ০৩:০০)। এই সময়ের মধ্যে না পৌঁছালে সাজেক ঢোকা সম্ভব নয়।
* কংলাক পাহাড়: সাজেকের সর্বোচ্চ চূড়া কংলাক পাহাড়। এখান থেকে পুরো মিজোরাম সীমান্ত দেখা যায়। এখানে যাওয়ার জন্য কিছুটা ট্রেকিং করতে হয়।
সাজেক ভ্রমণ মানেই মেঘের সাথে মিতালি। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথে চাঁদের গাড়ির ঝাকুনি আর মেঘের স্পর্শ আপনার জীবনভর মনে রাখার মতো একটি অভিজ্ঞতা হবে
এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url